kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাউজানে চাষাবাদে কৃষকের অনাগ্রহ

বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি

রাউজানের পূর্ব গুজরায় এসব জমিতে চাষাবাদ হয় না প্রায় ১৫ বছর। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলায় অনাবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। গেল বোরো মৌসুমে রাউজানের ১৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি ছিল। জলাবদ্ধতা, ধানের উৎপাদন থেকে বেশি খরচ, অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমির মাটি ভরাট করে ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকা পাহাড়ি এলাকার প্রবাহিত খালের বালিতে ভরাট হয়ে যাওয়া, সঠিক সময়ে পানির অভাব, লোকসানের ভয়ে কৃষকদের চাষাবাদে অনাগ্রহসহ নানা কারণে ফসলি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকায় হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের পাশ দিয়ে পানি চলাচলের পথ মাটি ভরাট করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজীপাড়া বশির হাজির বাড়ির সীমানা থেকে বড় মৌলানা শাহ হুজুরের মাজার পর্যন্ত ৪০ একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব জমিতে গত ১০ বছর ধরে কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারছে না বলে এলাকার বাসিন্দা মানিক জানান। এ ছাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর কাজীপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ৩০ একর ফসলি জমিতেও গত ১০ বছর ধরে চাষাবাদ হচ্ছে না। পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আধারমানিক এলাকায় যোগীছড়া খাল ও বেতাগী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চাষাবাদের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী রাউজানে ৫০০ হেক্টর ফসলি জমিতে কৃষকেরা চাষাবাদ করছে না। উপজেলা কৃষি অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, বাজারে কৃষকের উৎপাদিত ধানের মূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় বর্গা কৃষকেরা চাষাবাদ করছে না। কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি চাষাবাদের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

ডাবুয়া কলমপতি এলাকার কৃষক সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘পৈতৃক ফসলি জমিতে আগে ১৫ একর জমিতে চাষাবাদ করতাম। ধানের বাজার মূল্যের চেয়ে ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় বর্তমানে ৪ একর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, ‘ফসলি জমিতে চাষাবাদ না করে তিনবছর ধরে অনাবাদি ফেলে রাখা হলে সেই জমি সরকার খাসজমি করার নীতিমালা রয়েছে। রাউজানে ফসলি জমিতে চাষাবাদ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষক ও জমির মালিকদের বার বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।’ রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় ভরাট হওয়া খাল খনন করা হয়েছে। তবু কৃষক ও জমির মালিকেরা তাদের জমিতে চাষাবাদ না করে জমি অনাবাদি ফেলে রাখা হলে সরকারের পক্ষ থেকে আইনের প্রয়োগ করা হবে।’ যোগ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১ হাজার ২৭৬ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে। নিচু এলাকার কিছু জমিতে এখনো আমান ধানের চারা রোপণ করছে কৃষক। রাউজানে চাষাবাদের মোট জমি রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর। ১২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৩৪০ হেক্টর জমিতে শরৎকালীন সবজির চাষাবাদ হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা