kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডা. আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা

সাত মাস পর স্ত্রী জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথিসিয়া বিভাগের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন।

ডা. মিতুর জামিনে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ কামাল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আদালতের জামিননামা পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার সন্ধ্যায় ডা. মিতুকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’

গত ৩১ জানুয়ারি নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় বসে ডা. আকাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাস্টাস দেন। ওই লেখায় তিনি স্ত্রী মিতুর অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। পরে নিজের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে মৃত্যুকে বরণ করেন।

ওই ঘটনায় ডা. আকাশের মা জোবাইদা খানম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডা. মিতু, তাঁর মা শামীম শেলী, বাবা প্রকৌশলী আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা, মিতুর বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা প্যাটেল ও ডা. মাহবুবুল আলমকে আসামি করা হয়। ডা. আকাশের মৃত্যুর দিনগত রাতেই নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডা. মিতুকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আকাশের সঙ্গে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা মিতুর পরিচয় ছিল ২০০৯ সাল থেকে। ২০১৬ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর উচ্চশিক্ষায় মিতু আমেরিকা যান।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ডা. মিতু আমেরিকা থেকে দেশে ফেরেন। এর মধ্যেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের নানা বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিয়ের আগে ডা. মিতুর সঙ্গে তাঁর ছেলে বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলমের সঙ্গে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে ডা. আকাশ বিয়ের সময়ই জানতে পেরেছিলেন। আবার ডা. মিতু আমেরিকা থেকে ফিরে আসার পর মিতুর মোবাইল ফোনে মি. প্যাটেল নামে এক তরুণের কিছু আপত্তিকর বার্তাও পেয়েছিলেন আকাশ।

এসব নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে ডা. আকাশ তাঁর ফেসবুকে মিতুর বিরুদ্ধে একাধিক যুবকের সঙ্গে ‘বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক’ এবং ‘প্রতারণার’ অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের সপক্ষে বেশ কিছু ‘প্রমাণ’ ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা