kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অতিবৃষ্টি-জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি ১২ কোটি টাকা

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি ১২ কোটি টাকা

অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জেলায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে ১২ কোটি টাকার বেশি। এই ক্ষতির বোঝা টানতে হচ্ছে প্রায় ৩৭ হাজার কৃষককে। মোট ক্ষতির প্রায় ৯৮ শতাংশই হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা অফিসের পাঠানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই ক্ষতি নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে ও আসন্ন শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে কৃষি অধিদপ্তরের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৭৩৬ জন কৃষক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার মধ্যে আমনের বীজতলায় ১৩ হাজার ৮২৩ জন, রোপা আউশে ১০ হাজার ২৮৬ জন, গ্রীষ্মকালীন সবজিতে ১২ হাজার ৬২৭ জন কৃষক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে কৃষি অধিদপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ জেলায় আউশ ধানের আবাদ হয় ৯৮ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে কক্সবাজার, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে আউশের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বাকি দুই জেলা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার রোপা আউশের আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ ১২ হাজার ৯৭৮ হেক্টর এবং আমনের বীজতলা আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৭১ হেক্টর জমির।

এদিকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ রোপা আউশে ২৯৯ হেক্টর এবং বীজতলাতে ৮৯ হেক্টর জমি। রোপা আউশে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমির ফসল। ফলে এই আউশ ধানের ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সম মূল্যের এবং আমন ধানের বীজতলায় ক্ষতি হয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে করে আউশে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ হাজার ২৮৬ কৃষক পরিবার এবং আমনের বীজতলায় ১৩ হাজার ৮২৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জুলাই মাসের দুই সপ্তাহব্যাপী অতিবৃষ্টিতে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজির। এই ক্ষতির মধ্য সব থেকে বেশি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় এবং কক্সবাজার জেলায় দেখানো হয়েছে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নোয়াখালীতে অতি সামান্য হলেও ফেনী এবং লক্ষ্মীপুরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ছয় হাজার হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ১০৩ হেক্টর জমি। যার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৩০ হেক্টর জমির সবজি। সবমিলিয়ে সবজির ক্ষতি দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৬২৭ জন কৃষক।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ক্ষতি বেশি হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ঢাকা থেকে আমাদের এখনো প্রণোদনার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে আমনের বীজতলার যে ক্ষতি হয়েছিল সেটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি তেমন কোনো সমস্যা হবে না। তবে সরকার থেকে যদি কোনো সিদ্ধান্ত আসে তাহলে আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেব। ক্ষতির পরিমাণ জেলা পর্যায় থেকে নির্ধারণ করা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ক্ষতি হওয়া ফসলের একটা আনুমানিক দাম ধরে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।

চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ক্ষতি হয়েছে মোট ক্ষতির প্রায় ৯৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ জেলার উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী পটিয়া এবং আনোয়ারা উপজেলার আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা