kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘সাদা পোশাকের বাহিনী’ খুঁজতে পুলিশের অনীহা!

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সাদা পোশাকের বাহিনী’ খুঁজতে পুলিশের অনীহা!

নগরের দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় একটি চলন্ত কাভার্ড ভ্যান থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ওই কাভার্ড ভ্যানের আগে থাকা ‘সাদা পোশাকধারী বাহিনী’র সদস্যদের শনাক্ত করতে কার্যত ‘অনীহা’ দেখাচ্ছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। ওইদিন কাভার্ড ভ্যানটিকে থামানোর সিগন্যাল দিয়েছিল নোহা গাড়িতে থাকা ‘সাদা পোশাকের বাহিনী’র সদস্যরা। এর পর মুহূর্তেই ওই কাভার্ড ভ্যান থেকে একটি ব্যাগ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল নিচের মূল সড়কে। সেই ব্যাগে ৪০ হাজার ইয়াবা পায় পুলিশ।

দায়িত্বশীল একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নোহা গাড়িতে থাকা ‘বাহিনী’র সদস্যদের বিষয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাইছে না পুলিশ। কারণ, নগর পুলিশ মূলত একটিই ইউনিট।

ইয়াবা জব্দের ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন উপ-পরিদর্শক কিশোর মজুমদার। মামলাটি তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। গত ২৯ আগস্ট রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এই ব্যাগটি ফেলা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ ব্যাগ থেকে ইয়াবা জব্দ করে।

মামলাটির তদন্তের শুরুতেই তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজ পান। এতে দেখা যায়, দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার ধরে একটি কাভার্ড ভ্যান সামনের দিকে (অলংকারমুখী) এগিয়ে যাচ্ছিল। ওই কাভার্ড ভ্যানকে থামার সংকেত দেয় একটি নোহা গাড়ি।

সংকেত দেওয়ার পরমুহূর্তেই চালকের বাম পাশের আসনে বসা ব্যক্তি একটি থলে নিচের দিকে ছুড়ে মারেন। এরপর গাড়িটি থামানো হয়। নোহা গাড়ি থেকে তিনজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি নেমে গাড়ির চালক হেলপারের সঙ্গে আনুমানিক ২০ সেকেন্ড কথা বলে পুনরায় দুটি গাড়ি এক সঙ্গে চলে যায়।

ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পর মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান বলেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি আছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, কাভার্ড ভ্যান ও নোহা গাড়ি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা নোহাগাড়ি ও কাভার্ড ভ্যান  শনাক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দুটি গাড়ি এবং ‘বাহিনীর সদস্য’দের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। আবার এই মামলা নিয়ে আর কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না পুলিশের।

ডবলমুরিং থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, ওই কাভার্ড ভ্যান ও নোহা গাড়ি শনাক্ত করা কঠিন কিছু নয়। একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নোহা গাড়ি এবং সেই গাড়ি থেকে নামা তিন সদস্যের পরিচয় উম্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই কর্মকর্তা বলেন, নোহা গাড়িতে ছিল পুলিশ সদস্যরাই। এই কারণেই নগর পুলিশের এক ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে ইউনিটের সদস্যরা বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাইছে না। ফলে এই মামলার আর অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ সদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। তবে গাড়ি ও লোকজনদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।’

একই বিষয়ে ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকায় আসার কারণে এই মুহূর্তে ওই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বলতে পারছি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা