kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নগরেও ভোটার তালিকা হালনাগাদে কড়াকড়ি

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নগরেও ভোটার তালিকা হালনাগাদে কড়াকড়ি

ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ কর্মকৌশল ঠিক করেছে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। রোহিঙ্গাদের বিচরণের কারণে চট্টগ্রাম জেলার ৯ উপজেলাকে আগে থেকেই ‘বিশেষ উপজেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে ভোটার হওয়ার আগে অনেক ধাপ আর বিশেষ কমিটির যাচাই-বাছাই অতিক্রম করতে হয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো ‘আনঅফিশিয়ালি’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার তালিকা হালনাগাদেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিস। ফলে স্বাভাবিকভাবে এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেকটাই কড়াকড়ি হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবার মোট ৪টি বয়স শ্রেণিতে তথ্যসংগ্রহ করা হবে। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০১ ও ১ জানুয়ারি ২০০২ সালের পূর্বে তাদের খসড়া ভোটার তালিকা আগামী ২ জানুয়ারি ২০২০ সালে প্রকাশ করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের পরে হলে বয়স ১৮ হওয়া সাপেক্ষে নতুন ভোটার হিসেবে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। আর যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৩ সালের পূর্বে তাদের খসড়া ভোটার তালিকা ২ জানুয়ারি ২০২১ এবং ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পূর্বে জন্মগ্রহণকারীদের নিবন্ধিত খসড়া ভোটার তালিকা ২ জানুয়ারি ২০২২ সালে প্রকাশ করা হবে। তবে শেষোক্ত দুই বয়সশ্রেণির ভোটারদের তথ্য নিবন্ধন করা হলেও তারা আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গত ৭ আগস্ট বন্দর থানা এলাকায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে ডবলমুরিং ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ভোটার তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোতোয়ালী থানা এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্যসংগ্রহ শুরু করবে। পরবর্তী ২১ দিন পর্যন্ত এই তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। এরপরেই নিবন্ধন কেন্দ্রে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ সংগ্রহ করা হবে। এই হালনাগাদে মৃত ভোটারদের তথ্যসংগ্রহ করে তালিকা থেকে নাম কর্তন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সুযোগও দেওয়া হবে।

তবে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবার চট্টগ্রামে ভোটার তালিকা হালনাগাদে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসাইন খান। এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘যদিও অফিশিয়াল কোনো নির্দেশনা নেই এরপরেও সতর্কতাস্বরূপ বিশেষ উপজেলার মতো চট্টগ্রামে শহরেও এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যসংগ্রহ পর্যায়ে কিংবা ছবি তোলার সময় যাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেবে তাঁদের কাছ থেকে জমির দলিলের পরচা, মা-বাবা, চাচা, ফুফু, খালার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, দেশে আগে থেকেই অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেতে মরিয়া। তবে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের মংডুতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার নতুন করে অনুপ্রবেশে বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তারা যেকোনো অর্থের বিনিময়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর তাদের সহায়তা করছে একশ্রেণির দালাল ও নির্বাচন অফিসের কর্মচারীরা। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে কর্মকৌশল ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন।

ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের স্থায়ী নয় এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা যেহেতু সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি তাই বাড়ি বাড়ি তথ্যসংগ্রহের সময়ই তারা রোহিঙ্গা যাচাইয়ের প্রাথমিক ফিল্টারিংয়ের কাজটা করে ফেলবেন। এ জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণের সময় বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।’

এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাইরের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাঁর নিজের এলাকার জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জাতীয়তা সনদ জমা দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা