kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ও ইন্টারনেট সচল রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ও ইন্টারনেট সচল রয়েছে

সরকারি নির্দেশনার পরও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল কম্পানিগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ এখনো সচল রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। অবশ্য গতকাল সন্ধ্যার পর ক্যাম্পের কোনো কোনো এলাকায় নেট ক্রমেই দুর্বল হতে থাকায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তবে মোবাইল সংযোগ সম্পূর্ণ চালু রয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আজ (গতকাল) বিকেলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি ইন্টারনেট ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেছে। থ্রিজি থেকে টুজিতে নেমে এসেছে। গত সোমবারই মোবাইল ও নেট বন্ধসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জেলা প্রশাসক আমাকে অবহিত করেছেন।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, বিকেল ৫টা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য গত কয়েক দিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সন্ধ্যার দিকে ইন্টারনেট সংযোগ এমনিতেই দুর্বল ছিল। তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে ইন্টারনেট গতিসম্পন্ন থাকে বলে জানান তাঁরা।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল সংযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গারা জানান, ক্যাম্পে এসে তাঁরা নানাভাবে মোবাইল সিম পেয়েছেন।

রোহিঙ্গা হামিদ হোছেন জানান, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হলেও তেমন অসুবিধা হবে না। উখিয়ার হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হামিদ হোছেন ও তাঁর স্ত্রীর কাছে চালু রয়েছে বেসরকারি মোবাইল কম্পানি রবি ও বাংলালিংকের দুটি সিম। একটি সিম থাইনখালী বাজারের এক বিকাশ দোকান থেকে ক্রয় করা হয়েছিল। আরেকটি স্থানীয় এক গ্রামবাসীর আইডি দিয়ে চালু রয়েছে। রোহিঙ্গা হামিদের সুষ্পষ্ট বক্তব্য, তিনি একটি মোবাইল সিমে বৈধ অবস্থানে রয়েছেন।

টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল হাশেম জানান, তিনি রবি কম্পানির সিম কিনেছেন মিয়ানমারের রাখাইনে থাকতে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের আগে মিয়ানমারের ১২ হাজার কিয়েত দিয়ে একটি সিম নিয়েই বাংলাদেশে আসেন তিনি। সিমটির রেজিস্ট্রেশন আছে কি না তা জানেন না তিনি।

কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা সদস্য জগদীশ মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ নিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের যে দশা হবে আমারও তাই হবে। আমি স্থানীয় আমারই সম্প্রদায়ভুক্ত একজনের আইডি কার্ড দিয়ে রবি কম্পানির সিম নিয়েছি।’

জামতলী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি রবি কম্পানির সিম নিয়েছি একটি স্থানীয় পান দোকান থেকে। রেজিস্ট্রেশনের দরকার পড়েনি। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দরকার। বন্ধ হলে আর কী করব!’

টেকনাফ-উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ নিয়ে আলাপে রোহিঙ্গাদের এসব কথার পাশাপাশি স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রবি কম্পানির লোকজনই রোহিঙ্গাদের ডেকে ডেকে সিম বিক্রি করেছে। উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোবাইল কম্পানিগুলো ভুয়া করপোরেট অফিসের নামেও শত শত সিম রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করেছে। স্থানীয়রা যখন সিম কিনতে যায় তাদের কয়েকবার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে রেখে পরে এসব বিক্রি করেছে রোহিঙ্গাদের কাছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা