kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্রেইলরচালক-শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

আট ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম বন্দর সচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আট ঘণ্টা পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন ট্রেইলর চালক ও শ্রমিকরা। ট্রেইলরচালক সাজু হত্যার বিচারের দাবিতে হঠাৎ ধর্মঘট ডেকে বসে ট্রেইলরচালক ও শ্রমিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম প্রাইম মুভারস ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন। এর ফলে সোমবার সকাল ছয়টা থেকে বন্দরের ভেতর কন্টেইনার জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা এবং ডেলিভারি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন এবং এমপি দিদারুল আলমের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন। এর পর দুপুর ২টা থেকে বন্দরের ভেতর জাহাজ থেকে কন্টেইনার উঠানামা পুরোদমে শুরু হয়। একইসঙ্গে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারিও সচল হয়।

চট্টগ্রাম প্রাইম মুভারস ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা এবং সাজু হত্যাকারী গ্রেপ্তারের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আমরা দুপুর ২টা থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করেছি।’

জানা গেছে, জাহাজজট সামাল দিতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; এই জটিল সময়ে শ্রমিক ধর্মঘটে জাহাজজট আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে দুপুরের মধ্যে সচল হওয়ায় স্বস্তি ফেলেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধর্মঘট সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ালে আমরা খুবই বিপদে পড়ে যেতাম। আজ মঙ্গলবার চারটি কন্টেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাবে; দুপুরের মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় আশা করছি কোনো জাহাজ রপ্তানি কন্টেইনার না নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়তে পারবে না। সেই আপ্রাণ চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট বন্দরের বাইরে সীতাকুণ্ড এলাকার একটি বেসরকারি কম্পানি ড্যাব এর গ্যারেজে ট্রেইলরচালক শাহজাহান সাজু নিহত হন। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শ্রমিকরা গতকাল সোমবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমকে জিম্মি করে ধর্মঘট পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। প্রশ্ন উঠেছে ধর্মঘট-আন্দোলন তো হওয়ার কথা সেই গ্যারেজের মালিকের বিরুদ্ধে! সেটা না করে বন্দর কার্যক্রমকে জিম্মি করে ধর্মঘট ডাকেন ট্রেইলর শ্রমিকরা। আচমকা ধর্মঘটে ক্ষুব্ধ হন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামিয়ে ট্রেইলর-লরিতে করে পণ্য নেওয়া হয় বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোগুলোতে। আর রপ্তানি কন্টেইনার বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে কন্টেইনারভর্তি করে জাহাজীকরণের জন্য ট্রেইলরে করে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু ধর্মঘটের কারণে সকাল ছয়টা থেকে রপ্তানি পণ্য এবং খালি কন্টেইনার আনা-নেওয়া দুটিই বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সদস্য সচিব রুহুল আমিন সিকদার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা