kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচল স্কুলছাত্রী

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটি বাল্যবিয়ে ঠেকালেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। তাঁর নির্দেশে তথ্য আপা প্রকল্প-২ এর কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে ছাত্রীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করেন। গতকাল রবিবার দুপুরে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উত্তর ঘুনিয়ার দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রীর সহপাঠীরা জানায়, আজ সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছিল দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ও দিগরপানখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামিমা জন্নাত শায়িকা (১৪)। এজন্য গতকাল রবিবার দুপুরে কাজি ডেকে কাবিনমানা সম্পাদন করারও জোর প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু সেই মুহূর্তে তথ্য আপা প্রকল্প-২ এর চকরিয়ার তথ্য কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার, তথ্য সহকারী টুম্পা নাথ ও রুমাইনা জন্নাত গোপনে এই সংবাদ পেয়ে ইউএনওকে অবহিত করেন। পরে ইউএনওর নির্দেশে তথ্য কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে ছাত্রীর বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় ছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে আসা হয় ইউএনওর দপ্তরে। এর পর বর মো. সাগর (১৯) ও তাঁর বাবা দক্ষিণ ঘুনিয়ার বদিউল আলমকে ডেকে আনা হয় সেখানে।

তখন ইউএনও হবু বর ও কনেসহ দুই পরিবারের অভিভাবকদের বোঝাতে সক্ষম হন এটি বাল্যবিয়ে এবং এই বিয়ে দিলে তাঁদের জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তি পেতে হবে। তখন উভয়পক্ষ সম্মত হন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে ছাত্রীকে বিয়ে না দেওয়ার।

উপজেলা টেকনেশিয়ান এরশাদুল হক জানান, পরে মুচলেকা দিয়ে উভয়পক্ষ বাড়িতে চলে যায়। এ সময় ইউএনও উভয়পক্ষকে সতর্ক করেন, এর পরও যদি তাঁরা গোপনে এই বিয়ে দেন তাহলে আইনানুযায়ী শাস্তি পাবেন।

ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তথ্য আপা প্রকল্প-২ এর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর এই বিয়ে বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে ছাত্রীর মা জন্নাত আরা বেগম জানান, অভাবগ্রস্ত পরিবার হওয়ায় মেয়ের ভরণ-পোষণ চালাতে পারছেন না। তাই কম বয়সে বিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি পরিবারটি ভূমিহীন বলে জানানোর পর, তাঁদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, সরকারিভাবে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে সেখানে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার। আবার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত মেয়ের পড়ালেখার খরচও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করারও আশ্বাস দিয়েছি। এতে দুই পরিবারই সন্তুষ্ট হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধের মুচলেকা দেয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা