kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাউজানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডেকোরেশনকর্মীর মৃত্যু

চরম অনিশ্চয়তায় ছয় সদস্যের পরিবার

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মা, স্ত্রী, ছোট ভাই ও দুই ছেলেসহ ছয় সদস্যের অসচ্ছল সংসারটি সামান্য ডেকোরেশনকর্মীর কাজ করে একাই টেনে নিচ্ছিলেন মো. আবদুল হালিম (৩৪)। শনিবার রাতে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে প্রাণ গেল সেই হালিমের। এতে করুণ অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর অসহায় পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, মা, দুই ছেলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তাঁদের আহাজারি আর কান্নায় প্রতিবেশী, স্বজন ও এলাকার নারী-পুরুষের চোখেও দেখা গেল পানি। গতকাল রবিবার সকালে রাউজানের ডাবুয়া ইউনিয়নের আরবনগর গ্রামের মুন্সির পুকুর পাড়ের উজির আলী সিকদার বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই বাড়ির ফজল আহমদের ছেলে ডেকোরেশনের সাজসজ্জাকর্মী ছিলেন মো. আবদুল হালিম। গত শনিবার রহমান ডেকোরেশনের অধীনে রাউজান ডাবুয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী মুফতি অলিউল্লাহ শাহ (রা.) বাড়ির মো. সেকান্দরের ছেলে মো. পারভেজের মেহেদী অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার কাজ সেরে রাতে ফিরে আসছিলেন। সিএনজিচালিত অটোট্যাক্সিতে ফেরার পথে দেখতে পান, বিয়েবাড়ির সাজসজ্জার একটি সুইচ ভাল্বের নিচে ঝুলে আছে। সেটি দেখে হালিম গাড়ি থেকে নেমে পুনরায় উপরে তুলে দিতে গেলে অসাবধানবসত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তত্ক্ষণাৎ স্থানীয় লোকজন গহিরা জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল রবিবার বাদে আছর জানাজা শেষে হালিমকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রহমান ডেকোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আলম বলেন, ‘নিহত হালিম আমার ডেকোরেশনের কর্মী। তিনি বিয়ে বাড়িতে ডেকোরেশনের কাপড় লাগানোর কাজ করতেন। যেখানে কাজ পেতেন সেখানেই তিনি কাজ করতেন।’

নিহতের আত্মীয় আবদুল শুক্কুর বলেন, ‘মো. রিফাত (৭) ও মো. রিয়াদ (৪) নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে আবদুল হালিমের। পরিবারের ৭ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে ছেলেদের মধ্যে হালিম ছিলেন ৬ নম্বর। পুরো পরিবারটি গরিব। অন্য ভাইয়েরা আলাদা থাকেন। হালিম তাঁর মা, ছোট এক ভাই ও সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন। তাঁর সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হালিম ১৫ বছর ধরে ডেকোরেশনের সাজসজ্জার কাজ করে ৬ সদস্যের সংসারের ঘানি টানতেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি তছনছ হয়ে গেল। দুই ছেলের লেখাপড়াও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা