kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ নেতা!

চকরিয়ায় এক বছরে শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চকরিয়ায় গড়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোর একটি সিন্ডিকেট। এরা বিভিন্ন দলে-উপদলে ভাগ হয়ে কয়েক মিনিটে চুরি করছে বাহনটি। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, অফিস, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনে থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। একাধিক স্থানে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়লেও সেসব ফুটেজের ভিত্তিতে চোরকে শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া কেন্দ্রিক জেলার বিভিন্ন উপজেলার টোকাই শ্রেণির চিহ্নিত ও চৌকষ চোরদের সমন্বয়ে মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এখানে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক প্রভাবশালী একাধিক নেতা। মূলত বহিরাগত টোকাই শ্রেণির চিহ্নিত চোরদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে মোটরসাইকেল চুরির পর তা নিয়ন্ত্রণকারী কতিপয় নেতারা হজম করছেন। অবশ্য মাঝেমধ্যে পুলিশের তাত্ক্ষণিক বিচক্ষণতায় চুরি যাওয়া দুয়েকটি মোটরসাইকেল উদ্ধার সম্ভব হলেও বরাবরের মতো আইনি ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে সিন্ডিকেট সদস্যরা।

চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মাসুদ কালের কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরশহরের হাসপাতাল সড়কের একটি বাড়ির সামনে থেকে উধাও হয়ে যায় ডিসকভার ব্র্যান্ডের ১২৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল। পরে মালিক বিষয়টি পুলিশকে জানালে বিভিন্নস্থানে সোর্স নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি মোটরসাইকেলটির মালিকের নিকটাত্মীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাও বিভিন্নস্থানে খবর নেন এবং নজরদারি শুরু করেন। এদিন রাত সাড়ে বারোটার দিকে খবর পান ডুলাহাজারা এলাকায় একটি মোটরসাইকেল বিক্রির বিনিময়ে হাতবদল হচ্ছে। এ সময় স্থানীয় জনতা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে তাত্ক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মো. জমির উদ্দিন নামের চোর সিন্ডিকেটের এক সদস্যকে। এ সময় পালিয়ে যায় মো. বাবুল নামের আরেক সদস্য। জমিরের বাড়ি মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নলবিলায়। সে ওই গ্রামের শফিউল আলমের ছেলে। এ ছাড়া পলাতক বাবুল চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার সোনা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জমির ও বাবুলসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকার দলের ছাত্র সংগঠনের উপজেলা পর্যায়ের বর্তমান এক নেতা জানান, কয়েকমাস আগে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার রিদুয়ান নামের তার এক বন্ধুর এফ জেড এফ ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে আসা হয় চকরিয়ায়। এর পর ভুক্তভোগী মালিকের সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ খবর পান গাড়িটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের করাইয়াঘোনার কথিত এক ছাত্রনেতার হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত গড়ালে চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা গাড়িটি ফেরত দিতে বাধ্য হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত একবছরে চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, ভরামুহুরী আইসিডিডিআরবি সড়কের একাধিক ভবন, বিভিন্ন বাসাবাড়িসহ অসংখ্য স্থান থেকে চুরি হয়ে যায় নামী ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল। এমনকি চকরিয়া থানা পুলিশের সাবেক সাব ইন্সপেক্টর গাজী মো. মাঈন উদ্দিনের মোটরসাইকেল পর্যন্ত চুরি করতে দ্বিধা করেনি শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি। এভাবে শতাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চুরির পর ওইদিন রাতে ডুলাহাজারা থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মালিকের নিকটাত্মীয় চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আনাচ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডুলাহাজারা থেকে উদ্ধারকৃত চোরাই মোটরসাইকেলের সঙ্গে যেহেতু একজন বহিরাগত চোরকে পুলিশ ধরতে পেরেছে, সেহেতু তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া উচিত। এটি হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে মহেশখালী থেকে এখানে এসে কিভাবে সে মোটরসাইকেল চুরি করে এবং কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করে সব বেরিয়ে আসবে।’

সাবেক ছাত্রনেতা আনাচ বলেন, ‘পুলিশ দূরদর্শিতায় পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ভালোভাবে দেখলে ভবিষ্যতে এখানে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা অনেকাংশে রোধ হবে। ইতোপূর্বে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের হোতাদের শনাক্ত করতে এবং চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা