kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঁশখালীতে ব্যাংক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে চোর-ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁশখালীতে ব্যাংক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে চোর-ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়

বাঁশখালীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভিতে চোর-ছিনতাইকারী চিহ্নিত হলেও ধরতে পারেনি পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী ব্যাংক বাঁশখালী শাখায় ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব সাড়ে ৪ লাখ টাকা জমা দিতে পাশে ব্যাগভর্তি টাকা রেখে জমা রসিদ লিখছিলেন। এ সময় ব্যাংকের ভেতর প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ৪ চোর নানাভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আবু তৈয়বকে লক্ষ্য করে চোরের দল তাঁর সামনের ফ্লোরে কৌশলে টাকা ছিটিয়ে দেয়। ওই টাকা উঠিয়ে নেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাঁর ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে যায় ওরা। ওই ব্যাংকের সিসি ক্যামরায় গত ৯ জুলাই ঘটনাটি ধরা পড়ে। ওই ব্যবসায়ী ভিডিও ফুটেজসহ থানায় অভিযোগ করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ২৬ আগস্ট দুপুর ১টায় ছবি রাণী আইচ (৭০) ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের টাকা নিয়ে থানার সামনে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত তিন ছিনতাইকারীর ফাঁদে পড়েন। ওই নারীকে বয়স্কভাতা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে থানার পাশে ফরহাদ ও নোমান ভবনের গলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। যা ওই ভবনের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ওই নারীকে বয়স্কভাতা নিতে হলে শরীরের ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার খুলে ফেলতে হবে এবং টাকা ভর্তি ব্যাগ তাদের কাছে জমা রাখতে হবে বলে কৌশলে তা নিয়ে চম্পট দেয় ওরা। তাও থানায় অভিযোগ করলে অজ্ঞাত এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এভাবে উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মিশু দাশ, কাজল দাশ, জালাল উদ্দিন, জলদি মিয়া বাজারের ব্যবসায়ী জমশু সওদাগর, বৈলছড়ির আব্দুর শুক্কুর, রামদাস হাটের উজ্জ্বল ধর, শীলকূপের সেলিম উদ্দিনসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীর টাকা, মোবাইল ও দামি মালামাল দিনেদুপুরে নানা কৌশলে চুরি হয়েছে। এমনকি মানুষের পকেটে পায়খানার মল লাগিয়ে দিয়ে তা পরিষ্কারের কথা বলে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। পরে টাকা ছিনতাই করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ মাসে ৩৫টি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বাঁশখালীতে। চুরি ও ছিনতাই কাজে জড়িত আছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা চোরের দল। বিভিন্ন হাট বাজার ও ব্যাংকের সামনে লাগানো সিসি ক্যামরায় এসব চোর দৃশ্যমান হলেও গ্রামবাসী তাদের ছিনতে পারে না। স্থানীয়রা এদের ছিনতে না পারায় পুলিশও তাদের গ্রেপ্তার করতে তেমন একটা আগ্রহ দেখায় না। এভাবে সংঘবদ্ধ চোরের দল নানা কৌশলে বাঁশখালীতে মানুষের টাকা চুরি ও ছিনতাই করছে।

বৈলছড়ি ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব বলেন, ‘ব্যাংকের ভিতর আমার সাড়ে ৪ লাখ টাকা চুরি হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। অথচ চোরের দলের সবকিছু চুরির ঘটনা সিসি ক্যামেরায় আছে।’

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘সিসি ক্যামরার ভিডিও ফুটেজ দেখে অজ্ঞাত এসব চোরের দলকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর আছে। ওইসব লোক বাঁশখালীর নয়। তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে তবে ধরা পড়বেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা