kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন লাখ টাকার পাকুর বনসাই

দর্শনার্থী টানছে ফুল আর ফলজ গাছ

আউটার স্টেডিয়ামে সবুজ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দর্শনার্থী টানছে ফুল আর ফলজ গাছ

সবুজ মেলায় বনসাই ঘিরে উত্সুক মানুষের ভিড়। গতকাল দুপুরে। ছবি : রবি শংকর

প্রায় ২৮ বছর আগে সড়কের পাশ থেকে পাকুর গাছের একটি চারা সংগ্রহ করেছিলেন নগরের সরাইপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ খান বাবলু। শখের বসে এলাকার বড় ভাই মো. জাকারিয়ার উৎসাহে গাছটিকে বনসাইয়ে রূপ দিলেন তিনি। ২৮ বছর বয়সী সেই ছোট আকারের বনসাই পাকুর গাছটি এখন বিক্রির জন্য দাম হাঁকানো হচ্ছে ৩ লাখ টাকা!

নগরের আউটার স্টেডিয়ামে সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘সবুজ মেলা’র সবচেয়ে আলোচিত এবং দামি বনসাই পাকুর গাছটিকে উত্সুক মানুষের ভিড়। দামের কারণেই প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটিকে দেখতে আসেন, ছবি তুলতে আসেন। একই স্টলে ২২ বছর বয়সী অশ্বত্থ গাছের দাম দেওয়া হয়েছে দেড় লাখ টাকা।

চার বছর বন্ধ থাকার পর বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদকালে এবারই প্রথমবারের মতো ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে ২৫ আগস্ট। আউটার স্টেডিয়ামের বৃহৎ পরিসরে খোলামেলা উন্মুক্ত জায়গায় সবুজ মেলা ইতোমধ্যে বৃক্ষপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। মূলত বিকেল বেলায় জমে উঠে সবুজের সমারোহটি। গাছ ভালোবাসেন এমন শিশু-কিশোর মধ্যবয়সী আর বয়োবৃদ্ধদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।

গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটায় সবুজ মেলার চত্বরে ঘুরে দেখা যায় চারিদিকে শুধু সবুজের মেলা। মেলার গেট দিয়ে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে চত্বরের বৃহৎ অংশে মূলত নার্সারি ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখানে চট্টগ্রাম নার্সারি সমিতির ১৭ জন সদস্য স্টল নিয়ে নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ, শোভাবর্ধক ফুল, মসলার গাছ দেশি-বিদেশি গাছের চারা, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সার ও বাসার বারান্দা ও ছাদবাগানে লাগানোর মতো বিভিন্ন ধরনের টব দিয়ে সাজানো হয়েছে।

মেলায় কথা হয় সবুজ বিপ্লব নার্সারির মালিক আশরাফুল হকের সঙ্গে। একাই ৩টি স্টলে প্রায় ৮০০ প্রজাতির গাছ নিয়ে সাজানো হয়েছে সবুজ বিপ্লবের স্টলটি। প্রায় ৪০ বছর আগে নগরের টাইগারপাস মোড় রেলওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পাশে বাবা চট্টগ্রাম নার্সারি সমিতির সাবেক সভাপতি জাহেদুল হক নার্সারিটি গড়ে তুলেছিলেন। এবারের মেলাকে নিজের দেখা সেরা মেলা উল্লেখ করে আশরাফুল হক বলেন, ‘খোলামেলা পরিবেশে এবারের মেলাটি অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। অথচ এই মেলাটি গত ৪ বছর ধরে বন্ধ ছিল। আমরা চাই এমন মেলা প্রতিবছর হোক।’

এবার দেশি গাছের পাশাপাশি বিদেশি ফল গাছ যেমন; মিশরের ডুমুর চারা ২ হাজার, মিষ্টি চেরি ১ হাজার ২০০ টাকা, লাল পোনাই আম ২৫০ টাকা, ডগমাই ৩০০ টাকা, থাই কাঁচা মিঠা ২৫০ টাকা, কাঠিমন আমের চারা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সবুজ বিপ্লব নার্সারিতে। এ ছাড়া আগামী ২/১ দিনের মধ্যে লাখ টাকা দামের লাল চন্দন গাছ তোলা হবে এই স্টলে।

গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আর বৃক্ষমেলায় যারা আসে তারা মন ও মননে অন্য যেকোনো মেলার আগত দর্শনার্থীদের চেয়ে ভিন্ন।

মেলার ডানপাশে চট্টগ্রামের অনলাইনভিত্তিক চট্টগ্রাম বাগান পরিবারের স্টলে কথা হয় গ্রুপটির এডমিন আব্দুর রহিম তালুকদার রাহীর সঙ্গে। প্রতিটি পরিবার হবে একেকটি অক্সিজেন কারখানা-এমন ধারণা নিয়ে ৩ মার্চ ২০১৭ সালে গ্রুপটি খোলার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরে বর্তমানে এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। বাগান পরিবারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাহী বলেন, ‘সবুজায়নে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নিজের বাগানের বাড়তি গাছ, বীজ, চারা ইত্যাদি সদস্যদের মাঝে চাহিদা অনুযায়ী আদান-প্রদান করা হয়। এজন্য প্রায়ই নগরের সিআরবি এলাকায় গেট-টুগেদারের আয়োজন করা হয়। এই গ্রুপ সম্পূর্ণ অলাভজনক, অরাজনৈতিক অনলাইনভিত্তিক পরিবার।’

স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে সরাসরি মেলায় এসেছেন ঈদগাঁ এলাকার নাছিমা আক্তার। মেলায় আরণ্যক নার্সারির স্টলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। মেলায় আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এত গাছের সমাহার আর কোথায় পাব? এমন পরিবেশে মনটাই ভালো হয়ে যায়। ফলজ গাছের প্রতিই আমার আগ্রহ বেশি। নিজের বাসার ছাদে ছোট্ট একটি ছাদবাগান করেছি। সেই বাগানের জন্য কিছু গাছ, টব আর কিছু প্রাকৃতিক সার কিনব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা