kalerkantho

সোনাপুরে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মহেশখাল দখলমুক্ত করতে সিডিএর অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহেশখাল দখলমুক্ত করতে সিডিএর অভিযান শুরু

নোয়াখালী শহরের সোনাপুরে সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় মহেশখালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার সকালে খালের সুন্দরীপাড়া অংশে প্রথম উচ্ছেদ শুরু হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল আলম চৌধুরী এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মাঈনুদ্দিন বলেন, ‘মহেশখালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরের ১৩টি খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ইতোমধ্যে একাধিক খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সিডিএ’র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর খালের উভয় পাশে রিটেইনিং ওয়াল, রাস্তা নির্মাণ ও নিচু ব্রিজগুলো ভেঙে উঁচু করার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি খাল থেকে ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রমও শুরু হয়।

ডিপিপি অনুযায়ী গৃহীত এ মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০১৮ সালে ৩৬ খালের মাটি অপসারণসহ ৩০০ কিলোমিটার নতুন নালা নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ১০০ কিলোমিটার নালা নির্মাণ, ২০২০ সালের মধ্যে নগরে ৩৬টি খাল খনন, খালের পাশে ১৭৬ কিলোমিটার প্রতিরোধ দেয়াল, ৮৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

নোয়াখালী : জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল উদ্ধার করার লক্ষ্যে নোয়াখালী শহরের সোনাপুরে খাল ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শনি ও রবিবার এই অভিযান চলে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও নোয়াখালী পৌরসভা।

অভিযানে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সড়ক ও সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কের পাশ থেকে খালের ওপর গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। এখানে বেশ কিছু তিনতলা ভবনও রয়েছে। এসব ভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল। এ সময় নোয়াখালী পৌরসভা, পিডিবি ও বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর খাল ও সড়ক দখলমুক্ত করে খাল দিয়ে পানি প্রবাহের লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নোয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি জানান, নোয়াখালী শহরকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে খাল ও সড়কের ওপর থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে উচ্ছেদকৃতরা জানান, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে জেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভা থেকে বাৎসরিক ইজারা নিয়ে দখলে ছিলেন। দীর্ঘদিন থাকার কারণে অনেকে এখানে পাকা ভবনও তৈরি করেছেন। আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানে তাঁরা অনেকে পথে বসেছেন।

নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্লাহ খান সোহেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ খাল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে। খালের ওপর নির্মিত সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে এবং খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।’ ‘তবে যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আমরা অচিরেই করব।’-যোগ করেন মেয়র।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা