kalerkantho

চট্টগ্রামে জমজমাট কোরবানির পশুর হাট

ছোট ও মাঝারি গরুর ক্রেতা বেশি

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে জমজমাট বিকিকিনি হয়েছে মধ্যরাত পর্যন্ত। বৃষ্টিতে কাদাপানি উপেক্ষা করে পশুর হাটে ভিড় করছে ক্রেতারা। বিক্রেতারা চাইছে দাম ধরে রাখতে। আর ক্রেতারা চাইছে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশুটি কিনে বাড়ি ফিরতে। নগরীর ৯টি পশুর হাটের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পশুর হাটেও ভিড় করছে ক্রেতারা।

নগরীর বিবিরহাটে গিয়ে গতকাল দুপুরে দেখা যায়, বাজারে পশুর কমতি নেই। তবে দাম চড়া বলে জানায় ক্রেতারা। ৬০-৭০ হাজার টাকার কমে কোনো গরু মিলছে না। এ কারণে অনেকে অপেক্ষা করে আছে দাম কমার। এবার নগরীর হাটগুলোয় বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই লাখ পশু এসেছে। পশুর ঘাটতি নেই বলে জানায় ব্যবসায়ীরা।

নগরীর বৃহৎ দুটি পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট। নগরীর চাহিদার অর্ধেকের বেশি গরু বিকিকিনি হয় এই দুই হাটে। সাগরিকা হাটে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়িয়ে সাগরিকা শিল্প এলাকা হয়ে একে খান মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গরু উঠেছে। হাটে ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি লক্ষ করা গেছে। হাটে রয়েছে অসংখ্য ছাগল। কিছুসংখ্যক মহিষও দেখা গেছে।

নাটোরের গুরুদাশপুর থেকে বড় আকারের আটটি গরু নিয়ে সাগরিকা হাটে এসেছেন রঞ্জু ব্যাপারি। হাটের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা কোরবানির পশুর চালান নিয়ে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটে পৌঁছেছে। আমরা কজন মিলে নাটোর থেকে বেশ কটি গরু এনেছি। আমি এনেছি আটটি বড় গরু। একেকটি গরু ৮ থেকে ১০ মন ওজনের। আশা করছি গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে।’

বিক্রেতারা জানায়, এ পর্যন্ত মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি। বড় গরুর দরদাম হলেও বিক্রি হচ্ছে কম। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর বিকিকিনি চলছে বেশি।

অপেক্ষাকৃত একটি বড় গরু বিক্রি শেষে টাকা গুনতে গুনতে মজিদ ব্যাপারি জানান, এবার হাটে গরু বেশি। তাই দাম ধরে না রেখে অল্প লাভে বিক্রি করে দিয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক জানান, এবার চট্টগ্রাম জেলায় ৬৩টি স্থায়ী এবং ১৪৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। চট্টগ্রামে সম্ভাব্য কোরবানির পশুর সংখ্যা সাত লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সাত হাজার ৫৭টি খামারে ছয় লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু লালনপালন হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে চট্টগ্রামে প্রায় দুই লাখ গরু আসবে। চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদে গবাদি পশুর ঘাটতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

মন্তব্য