kalerkantho

চট্টগ্রাম ওয়াসা

আবাসিকে পানির দর বাড়ছে ৬২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবাসিকে পানির দর বাড়ছে ৬২ শতাংশ

চলতি বছরের ফেরুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৬২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব গতকাল চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই পানির নতুন দর কার্যকর হবে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী আবাসিক সংযোগে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ৯ টাকা ৯২ পয়সার স্থলে ১৬ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সার স্থলে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড। সভায় যদিও বাণিজ্যিকে ইউনিটপ্রতি দর ৪৫ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল।

বোর্ড সভা শেষে চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা দাম বাড়ানোর প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো কতগুলো প্রকল্প আমরা শেষ করেছি। এই প্রকল্পগুলো আমরা ঋণ নিয়ে করি। চেষ্টা করছি সব মানুষকে পানি দিতে। এসব ঋণ ও সুদ আমাদের পরিশোধ করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘নদী থেকে পানি নিয়ে শোধন করে পাইপলাইনে সরবরাহ করতে খরচ হয়। অনেক আগে থেকেই কম রেটে আমরা পানি দিতাম। আবাসিকে প্রায় ১৬ টাকা খরচ পড়ে এবং কমার্শিয়ালে ৪০ টাকা খরচ পড়ে। সরকার এ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম পানির দাম বাড়ানো যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে বলেন। এ জন্য উত্পাদন ব্যয় অনুযায়ী দাম রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

সেই হিসাবে অনুমোদিত প্রস্তাবনায় উত্পাদন খরচেই পানি বিক্রি করা হবে গ্রাহক পর্যায়ে। অথচ ওয়াসা আইন, ১৯৯৬-এর ২২ ধারা অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়াতে পারে ওয়াসা বোর্ড। সে অনুযায়ী চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল ওয়াসা। অথচ ছয় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার পানির দাম বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। তাও গড়ে প্রায় ৬২ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘বড় প্রকল্পের খরচ তো পরিশোধ করতে হয়। ২০২২ সালের পর সুদসহ শোধ করতে হবে। তখন খরচ আরো বাড়বে। সব দিক চিন্তা করে, জনগণের ওপর যাতে চাপ না হয় সেভাবেই করতে হচ্ছে। আমাদের বাড়ানোর ক্ষমতা আছে শুধু বছরে ৫ শতাংশ। আমরা সরকারকে খরচের বিষয়টা জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানকে সক্ষম রাখতে হলে এ পর্যায়ে আসতে হবে। পানি যে মূল্যবান, সেটাও মানুষকে জানতে হবে।’ নদীর পানি ঘোলা হওয়ায় তা শোধনে খরচ বেড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

মন্তব্য