kalerkantho

নাহার গ্রুপ বাজারে এনেছে ২০৫টি

অর্গানিক গরুর চাহিদা বাড়ছে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরবানি ঈদ ঘিরে ‘অর্গানিক গরু’র চাহিদা বাড়ছে। পশুর হাট থেকে গরু না কিনে অনেকে এখন খামার থেকে কিনছেন। কেনা গরুটি রোগ ও কেমিক্যালমুক্ত কিনা নিশ্চিত হতে কিনছেন অর্গানিক গরু। আগে বিচ্ছিন্নভাবে এসব গরু বিক্রি হলেও বছর দুয়েক থেকে বিভিন্ন খামারে বিক্রি হচ্ছে ‘অর্গানিক গরু’। নাহার এগ্রো গ্রুপের সফলতার পর এ বছর এশিয়ান এগ্রো, সারা এগ্রো ফার্মও অর্গানিক গরু।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় গরুর খামার আছে নাহার এগ্রো গ্রুপের। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নাহার ক্যাটল ফার্ম গত বছর ২০০ অর্গানিক গরু বাজারে এনেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও প্রতিষ্ঠানটি এনেছে আড়াইশ অর্গানিক গরু; এর মধ্যে ১৭০টি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। গত বছর গরুর ওজন ছিল ৫০০ থেকে ৯০০ কেজি এবার বিভিন্ন ক্রেতার কথা মাথায় রেখে ৩০০ কেজি থেকে এক হাজার কেজি ওজনের গরু এনেছে তারা।

নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘বাজারের অন্য গরুর চেয়ে আমাদের গরুর অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নিজের খামারের বাচ্চা ক্রসব্রিডিং (দেশি-বিদেশি জাতের মিশ্রণ) করেই বড় হয়েছে। বাইরে থেকে গরু কিনে এনে ওষুধ কিংবা কেমিক্যাল মিশিয়ে দিয়ে মোটাতাজা করা হয়নি। নিজের খামারের ঘাস-ভুট্টাসহ অর্গানিক খাবার খেয়ে গরুগুলো বড় হয়েছে।’

গরুগুলো রোগমুক্ত কিভাবে নিশ্চিত করবেন জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব বিশেষায়িত ভেটেরিয়ান দল, প্রতিমাসে গরুর বৃদ্ধি ও রোগমুক্ত তদারকি করে এবং তার রেকর্ডও আমরা রাখি।’

জানা গেছে, নাহার ডেইরি ফার্ম মূলত গরুর দুধ উৎপাদন করে থাকে। তাদের তিন খামারে বর্তমানে ১৪শ গরু আছে। এর মধ্যে ৩৫০টি গাভি থেকে দিনে ৬ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। সেখান থেকে গরুর বাচ্চাকে দিনে ৮শ লিটার দুধ খাওয়ানো হয়। বাকিগুলো চট্টগ্রামের বড় বেকারি এবং মিষ্টি উৎপাদনকারীর কাছে বিক্রি করা হয়। টুটুল বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে থেকে নিজেদের খামারে জন্ম নেওয়া গরুর বাচ্চা বড় করে মাংস উৎপাদনের ধারণাটা আসে। অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি রোগমুক্ত গরু কেনার আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনবছর আগে প্রথমবার ৩০টি অর্গানিক গরু বাজারে আনি। ধাপে ধাপে বেড়ে এবার আড়াইশ গরু আনলাম।’ তিনি জানান, কোরবানি ছাড়াও অনেক বিশিষ্টজন নিজেদের পারিবারিক অনুষ্ঠান-মেজবান ইত্যাদি আয়োজনে অর্গানিক গরু কিনছেন। এখন প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০টি অর্গানিক গরু বিক্রি হয়।

জানা গেছে, প্রত্যেকটি আস্ত গরু স্কেলে ওজন দিয়ে বিক্রি হচ্ছে; একে লাইভ ওয়েট বলা হচ্ছে। প্রতি কেজি দাম ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা। ফলে একটি ৩০০ কেজির  গরু কিনতে লাগবে প্রায় এক লাখ টাকা। খুব সুন্দর গরুটি কিনতে হলে গুনতে হবে আরও বাড়তি টাকা। নাহার ক্যাটল ফার্মে এবার সাড়ে চার লাখ টাকা দামের গরু বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা সাড়া ভালো হওয়ায় এবার নগরের কোনো গরু বাজারে তারা স্টল দেয়নি। সবাই খামারে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন; গরুর খাবার খরচ দিলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রাখতে পারছেন। 

উল্লেখ্য, নাহার এগ্রো গ্রুপের চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফটিকছড়ি এবং চকরিয়ায় একটিসহ মোট তিনটি খামার আছে; যেখানে গরু লালন-পালন হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা