kalerkantho

আড়তে আড়তে জোর প্রস্তুতি

এবার কোরবানিতে টার্গেট সাড়ে পাঁচ লাখ চামড়া

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবার কোরবানিতে টার্গেট সাড়ে পাঁচ লাখ চামড়া

এবার কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখের বেশি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে গরুর চামড়া প্রায় চার লাখ। আর ছাগল, ভেড়া ও মহিষের চামড়া দেড় লাখের বেশি। গত বছর ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে সাড়ে চার লাখ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাব মতে, গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে পশু কোরবানি হয়েছে ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৪১৫টি। আর এবার চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য পশু প্রয়োজন হবে সাত লাখ ২০ হাজার ৯৫৭টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে কোরবানি দাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। গতবারের তুলনায় এবারও বেশি গবাদি পশু কোরবানি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।  এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মুসলিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানিদাতার সংখ্যা বাড়ছে। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার গবাদি পশুর চামড়াও বেশি সংগ্রহ হবে। প্রতি বছর ৩/৪ স্তরের ব্যবসায়ীদের হাত বদল হয়ে একেকটি চামড়া আড়তে পৌঁছে। সেখানে প্রায় দুই মাস লবণজাত করে রাখার পর ট্যানারিতে সরবরাহ করা হয়।’ তিনি জানান, চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর ৮০ শতাংশ চামড়া ঢাকায় চলে যায়। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা কিছু টাকা নগদ দিলেও অধিকাংশ টাকা বাকি রাখে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির নেতারা জানান, এ বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার ক্রয়মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। গত বছরও সরকার লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম একই রেখেছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার ক্রয়মূল্য ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, অন্যান্য জেলায় ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ২০১৬ সালে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার ক্রয়মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ৫০ টাকা এবং অন্যান্য জেলায় ছিল ৪০ টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, কোরবানিকৃত গবাদি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের জন্য আতুরার ডিপো থেকে হামজারবাগ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপকভাবে আগাম প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া নগরের আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, অলংকার মোড়, নয়াবাজার মোড়, কালুরঘাট, বাকলিয়া, চকবাজার, সিইপিজেড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে অস্থায়ী আড়ত গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। আড়তদার সমিতি নেতারা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তাই আমাদেরকে আরো কম দামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে হবে। এরপর প্রক্রিয়াজাত ও লবণযুক্ত করে বিক্রি করতে হবে। কারণ প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতেই অন্তত ১২ থেকে ১৮ টাকা খরচ পড়ে।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, নগরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ছোট চামড়া ৫০০-৬০০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৮০০-১০০০ টাকায় সংগ্রহ করে। পরে তা মধ্যস্বত্বভোগীরা কিনে চৌমুহনী, অলংকার মোড়, নয়াবাজার মোড়, কালুরঘাট, বাকলিয়া, চকবাজার, সিইপিজেড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। সেখান থেকে নগরের প্রধান চামড়ার আড়ত আতুরার ডিপোতে এসে পৌঁছতে চামড়ার দর ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় দাঁড়ায়।

লবণের দাম স্বাভাবিক : প্রতিবছর চামড়া সংগ্রহের মৌসুমকে পুঁজি করে লবণের দাম বাড়লেও এবার ব্যতিক্রম। এ বছর লবণের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে লবণের বস্তা (৭৪ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। গত বছর প্রতিমণ লবণ বিক্রি হয়েছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর দেশে লবণের চাহিদা ১৭ লাখ টন। বিপরীতে দেশে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৫ হাজার টন। এ বছর চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে। তাই বাজারে লবণের দাম স্থিতিশীল। লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস বলেন, ‘এক শ্রেণির ব্যবসায়ী শিল্প-কারখানার জন্য আমদানি করা সোডিয়াম সালফেট কম দামে সোডিয়াম ক্লোরাইড বলে বিক্রি করছে। এ ছাড়া অসাধু আমদানিকারকরা মিথ্যা ঘোষণায় সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করে বাজারে ছাড়ছে। এতে দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক লবণ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।’

চামড়ার আড়তদাররা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘গবাদি পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার সময় যেন দেশি লবণ ব্যবহার করা হয়। দেশি লবণ ব্যবহার করলে চামড়ার গুণ-মান ভালো থাকে।’

চামড়ার বাজারের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ-র‌্যাব : কোরবানির ঈদের দিন শুধু চামড়া বিকিকিনি সংক্রান্ত কাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে নগরে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নগরে ঈদের দিন থেকেই শুরু হয় চামড়া বিকিকিনি। নগরের ৫৪ স্থানে চামড়া বিক্রি হবে। চামড়া যাতে কোনোভাবে পাচার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। চামড়া বিক্রিকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা