kalerkantho

নগরের সল্টগোলা ক্রসিং ও স্টিল মিল এলাকা

সড়ক ঘিরে পশুর হাট, যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক ঘিরে পশুর হাট, যানজট

নগরের সল্টগোলা ক্রসিং ও স্টিল মিল এলাকায় সড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট ইজারা না দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) অনুরোধ জানিয়েছিল নগর পুলিশ। অনুরোধ উপেক্ষা করে চসিক ইজারা দেয় সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে পশুর হাট বসবে এমন শর্তে। কিন্তু গতকাল বুধবার দেখা গেল, মূল সড়কের ওপর বা আশপাশ ঘিরেই বসেছে হাট। ইজারাদার সড়কের পাশে ফুটপাতে ত্রিপল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছে শেড। সেখানেই রাখা হয় পশু।

বুধবার দুপুরের পর যখন হাট জমতে শুরু করে, তখনই সড়কে তৈরি হয় যানজট। এমনিতে আগ্রাবাদ বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের কারণে সড়কে যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এর ওপর সড়কের কিছু অংশ ও ফুটপাত দখল করে পশুর হাট বসায় একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে সড়কটি। এতে চরম বিপাকে পড়ে  বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রী, গার্মেন্টস কারখানার পণ্য ও বন্দরের পণ্য পরিবহন কার্যক্রম।

এ অবস্থায় দুপুরের পর ট্রাফিক পুলিশ যখন যানজট নিরসনে হিমশিম খাচ্ছিল তখনই সড়ক থেকে গরুর হাট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমান। এরপর ট্রাফিক পুলিশ শুরু করে পশুর হাট সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম। পুলিশ সদস্যরা গরুর দড়ি খুলতে শুরু করেন। তখন বিক্রেতারাই দ্রুত গরু সরিয়ে নিতে শুরু করেন। পরক্ষণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা গরু রাখার জন্য ইজারাদারদের নির্মিত শেডগুলোও ভেঙে দেয়। এরপর যানজট কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে শুরু করে।

সড়ক ও ফুটপাত থেকে পশুর হাট সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক বন্দর) মো. তারেক আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কে যানজট বেড়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের প্রয়োজনে মূল সড়কের ১৩ মিটার অংশ টিনের ঘেরা দিয়েছে ঠিকাদার। তাই সড়কের দুই পাশে এক লেনে গাড়ি চলাচল করছে। এ অবস্থায় সড়কে পশুর হাট ইজারা না দেওয়ার জন্য নগর পুলিশের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এরপরও সিটি করপোরেশন পশুর হাট ইজারা দিয়েছে।’

‘ইজারাদারের লোকজন পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে সড়ক ও ফুটপাতে গরু রাখার জন্য শেড তৈরি করে। ফলে বুধবার দুপুরের পর থেকে সড়কে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। তাই কমিশনার স্যারের নির্দেশনায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে গরু সরিয়ে দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। পরবর্তীতে ইজারাদারের লোকজন গরুগুলোকে পতেঙ্গা স্কুল মাঠে নিয়ে যায়। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে।’-যোগ করেন তিনি।

উপ-পুলিশ কমিশনার তারেক আহম্মেদ বলেন, ‘উন্নয়নকাজের জন্য সড়ক সরু হয়েছে। এই সরু সড়কের যদি পশুর হাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে, তাহলে নগরের একাংশ কার্যত অচল হয়ে যাবে। তাই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

গরু নিয়ে সড়কের পাশে ফুটপাতে দাঁড়ানোর পরও পুলিশ জোর করে সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্রেতা আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর গরু নিয়ে চট্টগ্রামে আসি। অতীতে পুলিশ সদস্যরা গরুর রশিতে হাত দেননি। এবার খুঁটি থেকে রশি খুলে দিয়েছেন। তাই দ্রুত গরু নিয়ে পতেঙ্গা স্কুলমাঠে এসেছি। এমন হবে জানলে গরু নিয়ে আসতাম না। অন্য বাজারে চলে যেতাম।’

প্রসঙ্গত, সড়কের ওপর পশুর হাট ইজারা না দেওয়ার জন্য চসিককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল নগর পুলিশ। চসিক সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে যথারীতি পশুর বাজার ইজারা দেয়। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমান বলেছিলেন, ‘যানজট নিরসনের স্বার্থে সড়কে পশুর হাট বসতে দেবে না পুলিশ।

মন্তব্য