kalerkantho

চকরিয়ায় পাহাড়-টিলা কেটে সাবাড়

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলার কৈয়ারবিলে সরকারি পাহাড়-টিলায় শত বছরের কবরস্থানের জায়গা দখলে নিয়ে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কবরস্থানের পূর্ব-উত্তরাংশের বিপুল পরিমাণ জায়গা দখল করে সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ এবং পাহাড়ের পাদদেশ কেটে সমতল করা হয়েছে। এসব জায়গা পিলার ও কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে দখলকারীর মালিকানাধীন মৎস্য প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মো. জুবাইর বলেন, ‘আমাদের এলাকার কবরস্থান এবং সাহাব উদ্দিনের মৎস্য প্রকল্প অনেকটা নির্জন স্থানে। এই সুযোগে তিনি ধীরে ধীরে কবরস্থানের জায়গা দখল করেছে।’

চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের প্রভাষক ও কৈয়ারবিলের বাসিন্দা মো. জমির উদ্দিন জানান, খোঁজাখালী, ছোঁয়ালিয়াপাড়া ও কৈয়ারবিল হাইস্কুল পাড়ার অন্তত ২০ হাজার মানুষের একমাত্র কবরস্থান এটি এবং এই জায়গা সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। কিন্তু কবরস্থানের পাশের মৎস্য প্রকল্পের মালিক সাহাব উদ্দিন গায়ের জোরে কবরস্থানের নিম্নাংশের পাহাড়ি টিলা কেটে সাবাড়ের পর মৎস্য প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেওয়া হয়। এর পর সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করা হলেও কবরস্থানের জায়গা ছেড়ে না দিয়ে সেখানে পিলার ও কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে সে। এতে একদিকে কবরস্থান দখল এবং পাহাড় কেটে সাবাড় করলেও তার বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তাই কবরস্থানের জায়গা উদ্ধার এবং পাহাড় কেটে সাবাড় করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের প্রতি।’

কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন চৌধুরী স্বীকার করেছেন মৎস্য প্রকল্পের মালিক সাহাব উদ্দিন কবরস্থানের জায়গা দখলে নেওয়ার বিষয়টি।

বর্তমান চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কবরস্থানের জায়গা পুনরুদ্ধার করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।’

অবশ্য ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমার মৎস্য প্রকল্পের জায়গাটি দুইশ বছরের পৈতৃক সম্পত্তি। এই জায়গার মধ্যে কবরস্থানের কোনো জমি পড়েনি এবং তা প্রমাণ করতে পারবে না। এমনকি ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এসেও জমি পরিমাণ করে গেছেন। তাই কবরস্থানের জায়গা দখলে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’

এ প্রসঙ্গে সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত বলেন, ‘কৈয়ারবিলের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত টিলা শ্রেণির জায়গায় কবরস্থান রয়েছে। সেই জায়গা কেউ দখলে নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। তাই নতুন এসিল্যান্ডের কাছে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করলে ভালো হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা