kalerkantho

চট্টগ্রাম থেকে এবার নির্বিঘ্ন হজ ফ্লাইট

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম থেকে এবার নির্বিঘ্ন হজ ফ্লাইট

এবার চট্টগ্রাম থেকে নির্বিঘ্ন ছিল হজ ফ্লাইট। আগে ফ্লাইট শিডিউল এলোমেলো, কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট বাতিল এবং ভিসা না হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় চলতো হজ ফ্লাইট। প্রতিবছর এই চিত্র থাকলেও এবার ছিল ব্যতিক্রম। হজ ফ্লাইট নিয়ে হজ্বযাত্রী এবং এজেন্সিগুলোর বড় কোন অভিযোগও নেই এবার।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে মক্কা-মদিনায় পৌঁছেছেন। ৪ আগস্ট ছিল চট্টগ্রাম থেকে হজের শেষ ফ্লাইট। সব মিলিয়ে ৩৬টি হজ ফ্লাইটে তাঁরা সেখানে পৌঁছেছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমানের চট্টগ্রাম বিমানবন্দর স্টেশন ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার কারণে দুটি ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়া ছাড়া সব ফ্লাইট সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম ছেড়েছে। ৩৬টি ফ্লাইটে ১০ হাজার ৭২ যাত্রী চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে; কোন হজযাত্রী টিকিট কেটে যাননি এমন রেকর্ড নেই। আমরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করতে পেরেছি।’

‘৪ আগস্ট শেষ ফ্লাইট পরিচালনা পর্যন্ত হজযাত্রী এবং হজ এজেন্সিগুলো থেকে আমরা অভিযোগ পাইনি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি ফ্লাইট পরিচালনা নির্বিঘ্ন করে হজযাত্রীদের সেবা দিতে।’-যোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবার হজ ফ্লাইট শুরু হয় ৭ জুলাই। চট্টগ্রাম থেকে ১৯টি সরাসরি হজ ফ্লাইট এবং ১৪টি নিয়মিত বা শিডিউল ফ্লাইট দিয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। ৪১২ আসনের

সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ দিয়েই চট্টগ্রামের হজযাত্রীদের পরিবহন করে বাংলাদেশ বিমান। এর মধ্যে ১২টি যায় জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আর সাতটি ফ্লাইট সরাসরি মদিনায় প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যায়। শুরু থেকেই ফ্লাইট নিয়ে সংকট না থাকায় উদ্বিগ্ন ছিলেন না হজযাত্রী এবং হজ এজেন্সিগুলো। 

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এবার খুবই স্বস্তিতে ছিলাম; জলাবদ্ধতার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব ছাড়া বাকি সব ফ্লাইট সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম ছেড়েছে। এ ছাড়া আমরা ১৯টি সরাসরি হজ ফ্লাইটের বাইরে সপ্তাহে তিনটি করে সৌদি আরবে নিয়মিত ফ্লাইট পাওয়ায় বিমানের আসন সংকট ছিল না। ফলে নির্বিঘ্নে-স্বস্তিতে যেতে পেরেছেন চট্টগ্রামের হজযাত্রীরা।’

তাঁর অনুরোধ, ‘ফিরতি ফ্লাইটে হজযাত্রীদেরও যেন বিমান কর্মকর্তারা সেভাবে দেখভাল করেন।’

বিমান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেন, ২০ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে ফিরতি হজ ফ্লাইট আসা শুরু হবে; চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আসার সময় সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনায় বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়তে হয় হজযাত্রীদের। ভাষা সমস্যা এবং প্রথমবার যারা হজ করতে যান তাঁরাই বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েন। এরপর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নেমে লাগেজ ও জমজমের পানি পেতে ভোগান্তির মধ্যে পড়েন তাঁরা।

হজযাত্রীরা বলেছেন, বিমান কর্মকর্তারা যেভাবে যাওয়ার সময় তদারকি করেছেন; সেভাবে ফিরতি যাত্রীদের দেখভাল করেন তাহলেই সফল বলতে পারবো। এর আগে নয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার জন ব্যক্তি হজে গেছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছয় হাজার ৯১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১০ হাজার ৬১১ জন হজে যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা