kalerkantho

চট্টগ্রাম বন্দরে নিম্নমান সহকারী পদে নিয়োগ

ফল প্রকাশ হয়নি ১৯ মাসেও

২১ আগস্ট পরীক্ষার ফল ঘোষণার নতুন তারিখ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দরে ‘নিম্নমান সহকারী’ পদে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্ব্বরে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মৌখিক পরীক্ষাও দিয়েছেন। ১৯ মাসেও সেই মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বন্দরের আরেকটি পদ ‘নিম্নমান বহি সহকারী’ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতেও সময় লেগেছিল আটমাস। ফল না পেয়ে নিম্নমান সহকারী পদে দেড় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী উত্কণ্ঠার মধ্যে আছেন।

ফল প্রকাশে দেরির কারণ জানতে চাইলে ‘নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদে নিয়োগ কমিটির সভাপতি কমান্ডার আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৮ সালেই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে বন্দরের একই পদে আরও ৪১টি পদ খালি হয়েছে। ফলে দুবার আমরা পরীক্ষা নিতে চাইনি। সব মিলিয়ে ১৬২টি পদ পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছিলাম তাতে ১২১ জনের অনুমোদন মিলেছে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই এই পদ পূরণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ৬ আগস্ট সেটি চূড়ান্তের কথা থাকলেও নিয়োগ কমিটিতে নৌ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বদলি হয়ে এখন মংলা বন্দরে গেছেন। এই কারণে সময় পিছিয়ে ২১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয়ও আমাদের তাগাদা দিচ্ছেন দ্রুত শেষ করার জন্য। আশা করছি আর সময় পেছানো হবে না। সেদিনই চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পেয়ে যাবেন। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর যোগদান করতে পারবেন।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদে ৪১৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। যোগ্যতা ছিল কমপক্ষে এইচএসসি পাস। আর বেতনক্রম ছিল ৯ হাজার ৩শ থেকে ২৫ হাজার ৪৯০। এই পদে আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করে প্রায় ২৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৮৯০ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। এই পদে মোট ১২১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার ১৯ মাসেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি। এরইমধ্যে এই পদে আরও ৪১টি পদ খালি হয়ে যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছিল দুবার পরীক্ষা না নিয়ে একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ৪১টি পদে নিয়োগ দিতে। এজন্য নৌ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য আবেদনও করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১২১ জনকেই নিয়োগের অনুমোদন দেয়। অথচ বাড়তি পদের জন্যই এই সময়ক্ষেপণ।

জানতে চাইলে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ১২১ জনকেই নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। বাড়তি নিয়োগের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। নিয়োগ কমিটিও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে নিম্নমান বহি সহকারী, নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার পদ এবং জুনিয়র স্টোরম্যান পদে এক লাখ প্রার্থী আবেদন করে। এসব পদে এত বেশি আবেদন জমা পড়েছিল বাছাই করতে চট্টগ্রাম বন্দরকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। এর আগে সবগুলো নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবার চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে ঢাকাতে এই পদের পরীক্ষা নিয়েছিল; এই পরীক্ষা নিতে বাড়তি খরচও বহন করতে হয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে। এরইমধ্যে নিম্নমান বহি সহকারী পদে আটমাস এবং জুনিয়র স্টোরম্যান পদে চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে বছর পার হয়েছিল।

বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এসব পদে নিয়োগে মন্ত্রী থেকে এমপি পর্যন্ত ডিও লেটার-তদবির, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশ এবং আর্থিক লেনদেন সবকিছু ‘ব্যাটে-বলে’ খাপ খাওয়াতে সময় লাগে। এজন্য বন্দরে নিয়োগ প্রক্রিয়া কখনোই দ্রুত হয়নি। এ ছাড়া দেড় বছর আগে যারা এই তদবির-সুপারিশ ও আর্থিক লেনদেনে জড়িত ছিলেন সেখানেও পরিবর্তন হয়েছে। ফলে প্রার্থী চূড়ান্ত বাছাইয়েও এর প্রভাব পড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা