kalerkantho

কোরবানি ঈদ

১২ লাখ টাকার ‘রাজকুমার’

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ লাখ টাকার ‘রাজকুমার’

চকরিয়ার ইলিশিয়া পশুর হাটে গতকাল ‘এক টনের বেশি’ ওজনের গরু ঘিরে উত্সুক জনতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়ায় কোরবানি পশুর হাটে ‘এক টনের বেশি’ ওজনের একটি গরু ঘিরে উপস্থিত ক্রেতা-সাধারণ মাতোয়ারা! মালিক আবু ওবাইদ বাদল গরুটির নাম রেখেছেন ‘রাজকুমার’। এটির দাম হাঁকানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা! এরই মধ্যে কয়েকজন ক্রেতা রাজকুমারকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিক্রেতা রাজি হননি। রবিবার দিনভর ‘রাজকুমার’ ঘিরে উত্সুক মানুষের ভিড় ছিল ইলিশিয়া বাজারে।

পশ্চিম বড় ভেওল ইউনিয়নের দরবেশকাটার কৃষক আবু ওবাইদ বাদল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার একটি খামার রয়েছে। সেই খামারে একবছর ধরে অনেক কষ্ট করে রাজকুমারকে লালন-পালন করেছি। এর খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, ভূষি ছাড়াও আপেল, কমলা, মাল্টা, চিড়া, গুড়সহ নানান খাবার। এটির ওজন এক টনের বেশি।’

তিনি দাবি করেন, কক্সবাজার জেলায় যে কয়টি পশুর হাট রয়েছে সেখানে ‘রাজকুমার’ এর চেয়ে বড় গরু আর চোখে পড়বে না। এজন্য পুরো জেলার মধ্যে ‘রাজকুমার’ই সেরা। তাই দাম হাঁকাচ্ছেন ১২ লাখ টাকা।

বাদল বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ইলিশিয়া পশুর হাটে রাজকুমারকে আনার পর কয়েকজন ক্রেতা ৭ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত দাম দিয়ে কিনতে চেয়েছেন। তবে পুঁজি বেশি হওয়ায় ওই দামে বিক্রি করতে পারব না। শেষমুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করব।’

এদিকে সরেজমিন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, রবিবার সকাল থেকে দিনভর মাইকে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানান বাহারি প্রচার চালাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা এখন পশু কেনার চেয়ে দেখতেই ব্যস্ত।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি জাতের ছোট আকারের একটি গরুর মূল্য ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছেন তাঁরা। আর মাঝারি আকারের ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা আবার বড় আকারের গরু দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।

খুটাখালী বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা আবদুল করিম বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাটে ওজনের ওপর দাম নির্ভর করা হয় না। গরুর সৌর্ন্দয ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে দাম হাঁকিয়েছি।’

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশি গরুর দিকে ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি।

ইলিশিয়া ও খুটাখালী পশুর হাটের ইজারাদারেরা জানান, বাজারে কয়েক হাজার নানা জাতের গরু, মহিষসহ বিভিন্ন পশু আসছে। দেশি জাতের গরুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এখন পশু কেনার সংখ্যা কম হলেও শেষমুহূর্তে জমে উঠবে বেচাবিক্রি।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ কে এম শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাটে কোনো দুর্বৃত্ত অবৈধ কর্ম করার চেষ্টা করলে তাত্ক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া জাল নোট শনাক্তের জন্য মেশিন বসানো হয়েছে।’

মন্তব্য