kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক

কালুরঘাট সেতুতে বাস বিকল দীর্ঘ যানজট, দুর্ভোগ

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কালুরঘাট সেতুতে বাস বিকল দীর্ঘ যানজট, দুর্ভোগ

কালুরঘাট রেলওয়ে একমুখী সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর উপর প্রায়ই যানবাহন বিকলের ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে দুই পাড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। হেঁটে সেতু পার হতে গিয়ে ঢল নামে মানুষের। গতকাল সকাল ৯টায় তোলা। ছবি : কাজী আয়েশা ফারজানা

এমনিতেই কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খানাখন্দে ভরা জরাজীর্ণ সেতুটি দিয়ে চলে যানবাহন। এরই মধ্যে রবিবার সকালে সেতুর উপর একটি যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীসাধারণ। সেতুর দুপাড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেতুর মাঝখানে বিকল হয়ে পড়ে। এতে উভয় পাড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যাত্রীসাধারণ পড়ে দুর্ভোগে। অপ্রশস্ত সেতুর  দুদিক দিয়ে মানুষ সেতু পার হতে গিয়ে যানজট আরো দীর্ঘ হয়। সেতুর উপর নামে মানুষের ঢল। এ সময় দুর্ভোগে পড়া জনসাধারণের মুখে একটাই কথা, কবে হবে কালুরঘাট সেতু!

ভুক্তভোগী আবুল ফজল বাবুল বলেন, ‘নগর থেকে সকালে বোয়ালখালী আসার পথে কালুরঘাট সেতুতে দীর্ঘ যানজটে পড়ি। পরে হেঁটে সেতু পার হই। এ অবস্থায় যদি কোনো মুমূর্ষু রোগীকে পার করাতে হত তাহলে দীর্ঘ এই যানজট শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যেতেন!’

যানজটে আটকাপড়া যাত্রী শহীদুল আলম বলেন, ‘সেতুর দুপাড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর শত শত নারী পুরুষের কর্মস্থলে পৌঁছার সে কী উত্কণ্ঠা! শেষ পর্যন্ত হেঁটে পার হতে গিয়েও মানুষের জটে ত্রাহি অবস্থা। একে তো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। হেলে দুলে প্রতিদিন ধীরগতিতে যানবাহন পার হতে সময় নেয় দীর্ঘক্ষণ। এর ওপর দিনে রাতে হঠাৎ যানবাহন বিকল যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।’

কালুরঘাট সেতুর ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একটি বাস সেতু পার হওয়ার সময় বিকল হয়ে গেলে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ ঘটনা সকালে ঘটায় কর্মজীবী মানুষ খুব কষ্টে পড়ে। তবে দ্রুত বিকল বাসটি সরিয়ে সেতুতে যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক করা হয়।’

উল্লেখ্য, কালুরঘাটে নতুন একটি সড়ক সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুর জন্য কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদসহ একাধিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। গত বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কালুরঘাটে নতুন সেতুর জন্য জোরালো দাবি জানান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণাও দেন বাদল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা