kalerkantho

পশুর হাটের নিরাপত্তায় এবার ড্রোন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নগরের কোরবানি পশুর হাটের নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করতে যাচ্ছে পুলিশ। ড্রোন ব্যবহার করে পশুর হাট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি কোনো ভাবে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হচ্ছে কিনা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে কি না সেই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এবারই প্রথম নগর পুলিশ ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই হিসেবে পশুর হাটে গরু বেচাকেনা করতে যাওয়া মানুষ এবার পশুর হাটে গিয়ে দেখবেন, তাদের মাথার ওপর ড্রোন উড়ছে। আর অদূরে বসে মনিটরে পর্যবেক্ষণ করবে পুলিশ।

গতকাল শনিবার দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে ঈদুল আজহা, কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি জানাতে সংসদ সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। এর আগে তিনি পশুর হাটের ইজারাদার, সব থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি পশুর হাটে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ওয়াচ টাওয়ার, পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকবে। পাশাপাশি এই প্রথমবারের মতো নতুন সংযোজন হচ্ছে ড্রোন। এবার ড্রোন দিয়ে পশুর হাট পর্যবেক্ষণ করবে পুলিশ।’ পশুর হাট ঘিরে কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠনের নামেও চাঁদা তোলা যাবে না। এ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলোর কাগজপত্র তল্লাশি না করতে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অহেতুক হয়রানি করার সুযোগ যেন কেউ না পায় সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঈদের নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, বিশেষ শাখা, এনএসআই, ডিজিএফাইয়ের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এ ছাড়া কাউন্টার টেরিরোজম ইউনিট ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই দায়িত্বে থাকবে। পশুবাহী গাড়ি ছাড়াও বাস টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন ও লঞ্চঘাটে পুলিশের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে পশুর হাট : যানজটের কারণে কার্যত ‘স্থবির’ হয়ে পড়া বিমানবন্দরমুখী সড়কের পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সড়কটির এমন দুর্গতির কারণে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারীরা। 

এরই মধ্যে কোরবানির পশুর হাট ইজারার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সেখানে সল্টগোলা ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় পশুর বাজার ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব থাকায় নগর পুলিশ ২৮ জুলাই একটি চিঠি দিয়ে ওই দুই স্থানে পশুর বাজার ইজারা না দিতে সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করে।

পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে সিটি করপোরেশন সিমেন্ট ক্রসিং ও সল্টগোলা এলাকায় সড়ক থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে পশুর বাজার ইজারা দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের এমন সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। তিনি বলেন, ‘যানজটের কারণে পুলিশ সল্টগোলা ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় পশুর বাজার ইজারা না দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। এর পরও সিটি করপোরেশন সড়ক থেকে কিছুটা দূরে গরুর হাট ইজারা দিয়েছে। এটা দুঃখজনক। কারণ, এতেও যানজট লাঘব হবে না।’

নগর পুলিশ কমিশনার চসিকের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করলেও নগরের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, সিমেন্ট ক্রসিং ও সল্টগোলা এলাকায় সড়ক থেকে বেশ কিছুটা দূরে নিয়ে পশুর বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে যানজটে প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেন।

যানজট হবে না মেয়র এমন আশা প্রকাশ করলেও নগর পুলিশ কমিশনার তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন। কারণ, সল্টগোলা ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় যেখানে পশুর বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানকার চাপও সড়কে আসতে পারে। তবে তিনিও আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চসিককে অনুরোধ করেছিলাম, এর পরও যা হয়েছে, তাতে আমরা যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারব বলে আশা করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে আহ্বান করেছিলাম বিমানবন্দরমুখী দুটি বাজার স্টিল মিল ও সল্টগোলা এলাকায় ইজারা দেওয়ার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঠিক সে জায়গায় না হলেও পার্শ্ববর্তী দুটি জায়গায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। যেটি তুলনামূলক কম হলেও বিমানবন্দর সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের না। সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনেরও। আশা করি, ইজারাদাররা সিটি করপোরেশন নির্ধারিত চৌহদ্দি মেনে ভেতরে থাকবেন।’

মন্তব্য