kalerkantho

চকরিয়া

বন্যায় বেহাল সড়ক

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্যায় বেহাল সড়ক

সাম্প্রতিক বন্যায় চকরিয়ায় ক্ষতবিক্ষত কাকারা সড়ক। ছবি : কালের কণ্ঠ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা রয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সব সড়ক কোরবানির ঈদের আগে চলাচল উপযোগী করার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক কারণে চকরিয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের তিনটি এবং এলজিইডির ১৮টি সড়কের একেবারেই করুণ অবস্থা এখন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় এসব সড়ক ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।

এদিকে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সওজের নিয়ন্ত্রণাধীন চকরিয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়ক ও চিরিঙ্গা জনতা মার্কেট ভায়া বেতুয়াবাজার সড়কটির সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও জনগুরুত্বপূর্ণ একাধিক সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এতে এসব সড়ক দিয়ে যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এমনকি একাধিক সড়কে এখনো পর্যন্ত যানবাহন চলাচল সচলও হয়ে উঠেনি এবড়ো-খেবড়ো অবস্থার কারণে।

একই অবস্থা হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নিয়ন্ত্রণাধীন উপজেলার অন্তত ১৮টি অভ্যন্তরীণ সড়কের। এ অবস্থায় আর কদিন পরই কোরবানির ঈদ। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যাতে ঈদের আগেই সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ।

অবশ্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের উপযোগী করতে মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ চলমান রয়েছে। তবে অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কয়েকটি সড়ককে জরুরি সংস্কার কাজের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী করা হচ্ছে। আর যেগুলো বাকি রয়েছে তা পরবর্তীতে করা হবে।’

বন্যায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে থাকলেও ছিকলঘাট-জিদ্দাবাজার-কাকারা-মানিকপুর-ইয়াংছা সড়কটিতে সংস্কার কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এই সড়কে জরুরিভিত্তিতে এক টাকার কাজ করলে আমাদের ওপর বিপদ আসবে।’

অপরদিকে এলজিইডি নিয়ন্ত্রণাধীন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ অন্তত ১৮টি সড়ক ও উপ-সড়ক বন্যায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলজিইডি চকরিয়া কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় ১৮টি সড়কের ২০.৮৯ কিলোমিটার সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজ ভেঙে অন্তত সাত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সড়কগুলো হল কাকারা ইউপি অফিস-মাঝেরফাঁড়ি বাজার সড়ক, কাকারা শাহ ওমর আরএইচডি প্রপার কাকারা ইউএনআর সড়ক, কৃষ্ণকাটা সড়ক, বেতুয়া বাজার আরএইচবি-খিলছাদক বরইতলী বিবিরখিল সড়ক, বদরখালী ইউপি অফিস সড়ক, দক্ষিণ মাথা ফিশারীঘাট সড়ক, মাঝেরফাঁড়ি থ্রি-মাথা দক্ষিণ কাকারা জিপিএস সড়ক, প্রপার কাকারা-মেনিবাজার পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম ছিদ্দিকী সড়ক, হাজি ইলিয়াছ বাড়ি সড়ক, মাঝেরফাঁড়ি ব্রিজ-সুরাজপুর ফরেষ্ট অফিস সড়ক, লক্ষ্যারচর আরএইচবি সড়ক-শাহ ওমরাবাদ হাইস্কুল পৌরসভা সংয়োগ সড়ক, মাঝেরফাঁড়ি ব্রিজ কাটাখালী হাট সড়ক, বরইতলী মধ্যম সড়ক, পহরচাঁদা-সিকদারপাড়া-গোবিন্দপুর সড়ক, একতাবাজার-পুক্কাইয়া ঝিরি লামা সংয়োগ সড়ক, বরইতলী পহরচাঁদা আরএইচবি-মছনিয়াকাট আরএইচবি সড়ক, ডেইঙাকাটা সড়ক, বিএমচর দরগা পাহাড়, কৃষ্ণাপুর আরএনডিপিএস সড়ক, বিএমচর দরগা মুড়া কন্ন্যারকুম বেড়িবাঁধ সড়ক, বিএমচর ইউপি অফিস হতে পানির নাল জকরিয়া সংযোগ সড়ক।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কগুলোর ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিরা। তাদের অনেকেই কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যায় লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে বানের পানি নেমে গেছে অন্তত ১৫ দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এসব সড়ককে চলাচল উপযোগী করা হয়নি। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এজন্য সাধারণ মানুষ একদিকে সরকারের সমালোচনা করছে, অপরদিকে জনপ্রতিনিধিদের শুনতে হচ্ছে যাচ্ছে-তাই।’

তবে এলজিইডি চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল জানান, বন্যায় যেসব ছোট সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব সড়ককে চলাচল উপযোগী করে তুলতে কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধানে কাকারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সড়কগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিংয়ের অন্যান্য বড় সড়ক, কালভার্টগুলো বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার করা হবে এবং অনেক আগেই ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য