kalerkantho

কোরবানি ঈদ

চট্টগ্রামে পশুর চাহিদা ৭ লাখের বেশি

৭ হাজার খামারি হৃষ্টপুষ্ট করেছে ৬ লাখ ১০ হাজার পশু
ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন জেলা থেকে আসবে দুই লাখের বেশি

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চট্টগ্রামে পশুর চাহিদা ৭ লাখের বেশি

কোরবানি ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামে গবাদিপশু আসা শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে নগরের কর্নেলহাট এলাকা। ছবি : রবি শংকর

ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামে প্রায় সাত হাজার খামারি ৬ লাখের বেশি পশু মোটাতাজা করেছেন। এ ছাড়া জেলার ১৪ উপজেলায় গৃহস্থ বাড়িগুলোতেও গরু-ছাগল লালন-পালন করা হচ্ছে কোরবানি ঈদে বিক্রি করার জন্য। এবার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলে চট্টগ্রামে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক কালের কণ্ঠকে জানান, গত বছরের তুলনায় এবার খামারিরা গরু-ছাগল-মহিষ বেশি মোটাতাজা করেছেন। কারণ গত বছর খামারিরা গবাদি পশু বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তাই এবার তারা বেশি পশু পালন করেছেন। আগামীতেও কৃষক পর্যায়ে লাভ হলে উৎপাদন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে পশু কোরবানি হয়েছে ছয় লাখ ৫৫  হাজার ৪১৫টি। আর এবছর চট্টগ্রাম কোরবানির জন্য পশু প্রয়োজন হবে সাত লাখ ২০ হাজার ৯৫৭টি। কারণ প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ করে কোরবানি দাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বলে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়।

ডা. রেয়াজুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর এবং শিল্পনগরী হওয়ায় এখানে বিত্তবান মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব বিত্তবান মানুষের কাছে বড় ও সুন্দর গরুর চাহিদা থাকে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে দেশি মাঝারি আকারের গরুর। তাই উত্তরবঙ্গ, তিন পার্বত্যজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচুর সুন্দর সুন্দর গরু চট্টগ্রামের বাজারে নিয়ে আসেন বেপারিরা। গত দুই বছর চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর বাজারে আমরা দেখেছি সংকট হয়নি। এবারও সংকট হবে না।’

৩১ মে তৈরি করা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের এক তালিকায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ১৬৭টি, সীতাকুণ্ডে ৮২, সন্দ্বীপে ৭১, ফটিকছড়িতে ১৭০, রাউজানে ২৬৪, রাঙ্গুনিয়ায় ২২৫, হাটহাজারীতে৩০৩, বোয়ালখালীতে ১৬৯, পটিয়ায় ৫৩৯, চন্দনাইশে ৫৬০, আনোয়ারায় ৪০০, সাতকানিয়ায় ২২৫, লোহাগাড়ায় ৪৫০, বাঁশখালীতে ১৬৯, নগরের কোতোয়ালী থানায় ৭৫, ডবলমুরিংয়ে ৮৪ ও পাঁচলাইশে ৭৫টি মিলে চার হাজার ২৮টি বেশি খামার রয়েছে। এসব খামারে তখন হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫৭১টি গবাদি পশু। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭১টি, ৯১ হাজার ২১১টি বলদ, ১৫ হাজার ৯৮৮টি গাভি, ৩৯ হাজার ৬০৭টি মহিষ, ৯২ হাজার ২০৯টি ছাগল ও ৩০ হাজার ৮৮৭টি ভেড়া।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জুন মাস থেকে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার আরো তিন হাজারেরও বেশি অস্থায়ী খামারি প্রায় ৯৪ হাজার ৬৪৮টি গবাদি পশু লালন পালন করছেন। তারপরও এক লাখ ১১ হাজারের মতো গবাদি পশু সংকট থাকবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ১০/১২ দিন আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামে প্রচুর গবাদি পশুর চালান আসবে। এতে করে আর সংকট থাকবে না। বরং প্রতি বছরের মতো উদ্বৃত্ত থাকবে।

আসন্ন কোরবানির বাজারে পশু সংকট হবে না জানিয়ে ডা. মো. রেয়াজুল হক আরো বলেন, দেশজুড়ে গবাদি পশু পালন বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে আমরা ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় নিজেদের চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে পারছি।

তাঁরা বলেন, নিরাপদ গো-মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা খামারিদের উদ্বুদ্ধ করেছি। এ ব্যাপারে মনিটরিং কার্যক্রমও বছরজুড়ে জোরদার ছিল। ফলে আশানুরূপ ফল এসেছে।

নগরের স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট : আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানি পশুর হাট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৮টি পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। এর মধ্যে ২টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। স্থায়ী পশুর হাটগুলোর মধ্যে সাগরিকা গরুর বাজার ও বিবিরহাট গরুর বাজার এবং অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), কাটগড় গরুর বাজার (পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ), সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন গরুর বাজার, স্টিল মিল গরুর বাজার, ৪১নং ওয়াডস্থ বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠে গরুর বাজার, কমল মহাজন গরুর বাজার এবং পোস্তারপাড় ছাগল বাজার রয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে এসব অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু বিকিকিনি শুরু হয়েছে। 

মেডিক্যাল টিম : নগর ও জেলার ১৯২টি পশুর হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে ৮২টির অধিক মেডিক্যাল টিম কাজ করবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিন একই সময়ে জেলা ও নগরের সব হাট বসে না। হাটের সংখ্যা বেশি হলেও পালাক্রমে মেডিক্যাল টিমগুলো জেলা ও নগরের বিভিন্ন হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুর বিষয়ে সন্দেহ হলে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে প্রতিটি হাটে।

মন্তব্য