kalerkantho

সোনাগাজীতে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা লুট

গৃহবধূকে হত্যার ১০ বছর পর একই কায়দায় স্বামীকে হত্যা

বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার ভাদাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনাগাজীতে মামলা দায়েরের ৯ দিনের মাথায় জামাল উদ্দিন (৫৫) নামের এক প্রবাসীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় জামালের বসতঘরের দরজা জানালা, আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ দুই লাখ টাকা লুটে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের এ ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ আজিমা আক্তার (৫০) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে (২০০৯ সালে) গভীর রাতে ঘরে ঢুকে একই কায়দায় জামাল উদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার জানায়, আলতাফ আলীর ছেলে সৌদিপ্রবাসী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে একই বাড়ির শাহ আলম গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছে। সম্প্রতি আদালতের একটি রায় পক্ষে এলে গত ২৪ জুলাই জামাল বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় শাহ আলমের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী জামাল ও তাঁর তিনজন নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ ঘটনায় শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

পুলিশ সম্প্রতি মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। অন্য আসামিরা ২৮ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনে ছাড়া পায়। এরপর বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শাহ আলমের ছেলে রিয়াদ, হৃদয় ও আলাউদ্দিন স্থানীয় সন্ত্রাসী জাহিদ, দাউদুল ইসলাম ও জামসেদ আলমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের সন্ত্রাসীদল জামালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে মুখে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করা হয়। এ সময় জামালের পুত্রবধূ জাকিয়া আক্তারকে পিটিয়ে আহত করে এবং আলমারি ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুট করে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান জামাল।

নিহতের পুত্রবধূ জাকিয়া বাদী হয়ে রিয়াদ, হৃদয়, আলাউদ্দিন, জাহিদ, দাউদুল ইসলাম, জামসেদ, আজিমা আক্তার, আমেনা খাতুনসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এরই মধ্যে এজাহার নামীয় একজন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আসামিপক্ষ জামালের স্ত্রী আয়েশা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সে ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিও আদালতে বিচারাধীন। নিহতের দুজন প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে।

মন্তব্য