kalerkantho

স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে চবির শারীরিক শিক্ষা বিভাগ

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে একের পর এক অনিয়ম চলছে। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা চার ঘণ্টা নেওয়া এবং দুই শিফটের পরীক্ষা এক শিফটে নেওয়া, কোর্স না থাকা সত্ত্বেও বিগত প্রশাসনকে খুশি রাখতে উপাচার্যের (অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী) ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে পরীক্ষা কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. মু. গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শিক্ষা অনুষদের অর্ডিন্যান্সের ২১(১) ধারা লঙ্ঘন করে বিভাগের চারটি বর্ষের পরীক্ষা কমিটির মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে পরীক্ষা কমিটিতে রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক লিটন মিত্রকে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে এ দুই বর্ষে সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি বিষয়ে কোনো কোর্স ছিল না।

অভিযোগ আছে, বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট এক্সপার্টকে না রেখেই। বিভাগের সাবেক সভাপতি এবং কোর্স নেওয়া সত্ত্বেও এ এইচ এম রাকিবুল মাওলাকে কোনো কমিটিতে সদস্য রাখা হয়নি। স্বেচ্ছাচারিতা কাটিয়ে চারটি বর্ষের একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া চারটি পরীক্ষা কমিটিরই সভাপতি হয়েছেন অধ্যাপক ড. মু. গোলাম কবীর।

এ ছাড়া শিক্ষা অনুষদের অর্ডিন্যান্স ২০১৭-১৮-এর ১৩(২) ধারা অনুযায়ী কোনো কোর্স তিন ক্রেডিট অথবা তার কম হলে তিন ঘণ্টা এবং তিন ক্রেডিটের বেশি হলে চার ঘণ্টা পরীক্ষা নেওয়া যাবে। কিন্তু বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের প্রতিটি কোর্সের পরীক্ষা তিন ঘণ্টার বদলে চার ঘণ্টা করে নেওয়া হয়েছে। আবার শিক্ষা অনুষদের অর্ডিন্যান্স ২০১৫-১৬-এর ১৩(২) ধারা অনুযায়ী কোনো কোর্স দুই ক্রেডিট অথবা তার কম হলে তিন ঘণ্টা এবং দুই ক্রেডিটের বেশি অথবা চার ক্রেডিট বা তার কম হলে চার ঘণ্টা পরীক্ষা নেওয়া যাবে। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ৩১৫ এবং ৪১৫ নম্বর কোর্সের তিন ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হয় চার ঘণ্টা করে।

অন্যদিকে রুটিন অনুযায়ী, প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ও তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা গত ১৬ জুন এবং দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ও চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা ২০ জুন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে মতে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা সকালের শিফটে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা বিকেলের শিফটে নেওয়ার কথা। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত ১৬ জুনের পরীক্ষা দুই শিফটে হলেও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শুধু একটি নোটিশ দিয়ে দুই শিফটের পরীক্ষা এক শিফটে নেওয়া হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের বলা হয়, পরীক্ষার উপস্থিতিপত্রে স্বাক্ষর করার সময় যার যে শিফটে পরীক্ষা ছিল সে শিফটে যেন স্বাক্ষর করে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। এমনকি রুটিনের অনুলিপি পাঠানো হলেও নোটিশ দিয়ে দুই শিফটের পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়ার নোটিশের কপিও দেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরকে। এই অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হলে রুটিন পরিবর্তনের নোটিশটিও সরিয়ে ফেলা হয় নোটিশ বোর্ড থেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ১২টি কোর্সের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের বেশি দিতে হয়েছে। তা ছাড়া রুটিনে দুই শিফটে পরীক্ষার কথা উল্লেখ থাকলেও হঠাৎ করে রুটিন পরিবর্তন করা হয়। আবার এক শিফটে পরীক্ষা দিলেও উপস্থিতিপত্রে যার যখন পরীক্ষা ছিল সে অনুযায়ী স্বাক্ষর করতে বলা হয় বিভাগ থেকে। একসঙ্গে দুটি ব্যাচের পরীক্ষা ছোট রুমগুলোতে গাদাগাদি করে দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, অধ্যাপক ড. মু. গোলাম কবীর কোনো কোনো সপ্তাহে এক দিনও বিভাগে আসেন না। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জালাল তাঁর সব অনিয়ম কার্যকলাপের সঙ্গী। ওই হাবিবুর রহমান বিভাগের অঘোষিত সভাপতি!’

তিন ঘণ্টার পরীক্ষা চার ঘণ্টা, দুই শিফটের পরীক্ষা এক শিফটে ও কোর্স না পড়ানো শিক্ষককেও পরীক্ষা কমটিতে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মু গোলাম কবির কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সব তথ্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে দিয়েছি, তারা জানে। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমীর মোহাম্মদ মুছা বলেন, ‘আমি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এ বিষয়গুলো দেখছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খালেদ মিছবাহুল রবীন।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মিছবাহুল রবীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো অফিশিয়ালি লিখিত তথ্য আসেনি। এসব তথ্য এলে যাচাই করে নিয়মবহির্ভূত কিছু ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ অর্ডিন্যান্স ও নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।’

মন্তব্য