kalerkantho

চুরির মামলা পিবিআইর তদন্তে ডাকাতি

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীর ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় থানায় চুরির মামলা নেওয়া হলেও এটি পুলিশের ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে ডাকাতি হিসেবে উঠে এসেছে। ওই ঘটনায় তিন আসামি ধরাও পড়েছে। তবে পিবিআইর প্রতিবেদনের পর আসামিদের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভয়ে ঘরে থাকতে না পেরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন মামলার বাদী। তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।

ঘটনার শিকার উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের হাজি এয়াকুব আলী মাস্টারের বাড়ির মৃত হাজি অলিউর রহমানের ছেলে বৃদ্ধ আব্দুল মোনাফ। বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর কাছ থেকে ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুট করে নেওয়ার ঘটনায় সমপ্রতি পিবিআইর তদন্তের পর মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ শমসের পাড়ার মৃত দেলা মিয়ার ছেলে খায়েজ আহমদ, একই এলাকার মৃত কাছিম আলীর ছেলে বাচা মিয়া, একই এলাকার মৃত বানু চৌকিদারের ছেলে মো. শহিদুল গ্রেপ্তার হয়। এই মামলায় অধরা আসামিরা হলেন উত্তর শমসের পাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইলিয়াছ প্রকাশ ধামা ইলিয়াছ, দক্ষিণ সমশের পাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে মো. খোকন ও একই এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. সেলিম প্রকাশ বাইল্লে।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর অধরা আসামি সেলিম, গ্রেপ্তারকৃত আসামি খায়েজ আহম্মদের ছেলে মো. সাকেল অন্য আসামিদের নিয়ে সমপ্রতি আমার ঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার স্ত্রীকে মারধরের চেষ্টা করে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।’

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর এসআই পরিতোষ দাশ বৃহস্পতিবার বলেন, ’১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুটের অভিযোগটি রাউজান থানায় চুরির মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। ওই মামলার তদন্ত করেন থানার এসআই সাইমুল ইসলাম। কিন্তু মামলাটি পরে তদন্তের জন্য পিবিআই দায়িত্ব পায়। তদন্তে টাকা লুটের সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে আদালত ৬ আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। পরে পুলিশ খায়েজ আহমদ, বাচা মিয়া, মো. শহিদুল নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।’

উল্লেখ্য, কোরবানির গরুর ব্যবসা করার জন্য আব্দুল মুনাফ ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক রাউজান পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। গরু বিক্রি শেষে ব্যাংক বন্ধ হওয়ায় তিনি টাকা ঘরে রাখেন। পরে আব্দুল মুনাফ ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার সময় আসামিরা তাঁকে মারধর করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনা থানা পুলিশ চুরির মামলা হিসেবে নিলেও দীর্ঘদিন পর পিবিআইর তদন্তে ডাকাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়।

মন্তব্য