kalerkantho

ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ♦ এবড়ো-খেবড়ো সড়ক ♦ নালা-নর্দমা ভরাট

বেহাল কক্সবাজার শহর, জনদুর্ভোগ

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেহাল কক্সবাজার শহর, জনদুর্ভোগ

খানা-খন্দে ভরা কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক (বাঁয়ে) এবং সৈকত মাদরাসা সড়কের আশপাশে নারিকেলের খোসার স্তূপ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজার শহরে একদিকে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপ, অন্যদিকে সড়ক ও নালা-নর্দমাগুলোর বেহাল দশা। এতে পৌরবাসীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সাগর পাড়ের স্বাস্থ্যকর স্থান হিসেবে পরিচিত শহরটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের বেশির ভাগ এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা। চলাচলের সড়ক ও উপসড়কগুলো গর্ত আর খানা-খন্দে ভরা। ময়লা-আবর্জনার কারণে ডেঙ্গু মশার প্রজননের আশঙ্কাও রয়েছে। আর এমন অবস্থা মোকাবিলা করতে নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের সড়কগুলো ভাঙাচোরা এবং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। নালা-নর্দমা ভরাটের কারণে এবং অনেক সড়কে নর্দমা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলে সড়ক উপচে পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে দেশের প্রধান পর্যটন শহর। বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। শুধু সড়কের পাশে নয় নালায়ও ফেলা হয় ময়লা।

আবার দিনের ব্যস্ততম সময়ে খোলা ট্রাকে করে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধময় হয়ে উঠে শহর। খোলা ট্রাক থেকে কিছু কিছু ময়লা সড়কেও পড়ে যায়। এতে পথচারীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। শহরের সৈকত বালিকা মাদরাসা সড়কের আশে-পাশে ডাব-নারিকেলের খোসার স্তূপ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাগর তীরের ঝাউবীথির আড়ালেও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

শহরের একমাত্র প্রধান সড়কের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় পৌরবাসী। পশ্চিমে হলিডে মোড় থেকে পূর্বে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থা মারাত্মক খারাপ। প্রতিদিনই খানাখন্দে পড়ে যানবাহন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সড়কটির মালিকানা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচার ছিল। কেউ বলে পৌরসভা, কেউ বলে সওজ আবার কারও মতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। কেউ এগিয়ে আসছে না জরুরিভাবে সংস্কারের কাজ করতে। সর্বশেষ কদিন আগে কামাল হোসেন চৌধুরী নামে স্থানীয় একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা একটি অনুষ্ঠানে সড়কের সংস্কার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এমন ঘোষণার পর কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে প্রচারণার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়-বাস্তবে সড়কটি কউক কর্তৃপক্ষের।

এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব আবু জাফর রাশেদ জানান, গেল বছরের অক্টোবর মাসে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার মাধ্যমে প্রধান সড়ক সওজ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কউক কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা হয়েছে। সড়কটির সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা একনেকে অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজও শুরু হবে। 

অপরদিকে প্রধান সড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়ক, উপসড়ক ও নালা-নর্দমা সংস্কার এবং রাস্তার ধারে ও নালায় ময়লা জমে থাকার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ট্রাকে যেসব ময়লা নিয়ে যাওয়া হয় তা ফেলা হচ্ছে বাঁকখালী নদীতে। এতে দূষিত হয়ে পড়ছে নদী। দুর্গন্ধ আর দূষণের শহরে পরিণত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার শহর।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার কিছু চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। তিনি জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় জনসংখ্যা বেড়েছে, বর্ধিত হয়েছে পৌরসভা। কিন্তু সেই অনুপাতে পৌরসভায় জনবল বাড়েনি, বাড়েনি কোনো সুযোগ-সুবিধাও। পৌরসভার ওপর জনগণের নানাভাবে চাপ বেড়েছে। চাপ পড়েছে সড়ক ও নালার উপর। এসব সমস্যা সমাধানে এখনো সরকারি কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। নাগরিকদের কর বাড়ানো হয়নি। সীমিত আয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

পৌর মেয়র বলেন, ‘দেড়শ বছরের পুরনো শহরটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। ফলে বাধ্য হয়ে পৌরবাসীর এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বাঁকখালী নদীর পাড়ে। আবার ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে নদী থেকে সাগরও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মন্তব্য