kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

দেয়াঙ পাহাড়ে হাতির পাল

কেইপিজেড সড়ক-লোকালয়ে দিন-দুপুরেও হানা, আতঙ্ক

হুমায়ূন কবির শাহ্ সুমন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)   

২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেয়াঙ পাহাড়ে হাতির পাল

কর্ণফুলী নদীর ওপারে কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) এবং এর আশপাশের এলাকায় বন্যহাতির উৎপাত দেখা দিয়েছে। দিন-দুপুরেও সড়ক-লোকালয়ে নেমে আসছে হাতি। এলাকাবাসীর রাত কাটে হাতি আতঙ্কে। এই অবস্থা চলছে গত কয়েক মাস পর পর। এলাকার দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নেয় হাতির পাল। সুযোগ বুঝে হানা দিয়ে বিভিন্ন গাছপালা ও স্থাপনার ক্ষতি করে প্রায়ই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে কেইপিজেড ও দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে এক পাল হাতি। দিন-দুপুরে বা সন্ধ্যা নামলেই সড়ক ও লোকালয়ে চলে আসে এরা। বর্তমানে কেইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আশপাশের এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) সূত্র জানায়, বর্তমানে এখানকার ২৩ কারখানায় আনোয়ারা-কর্ণফুলী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে আশপাশের অনেকে হেঁটে কারখানায় যান। শ্রমিকেরা হেঁটে যানবাহনে ওঠেন। কিন্তু দেয়াঙ পাহাড়ে হাতি অবস্থান নেওয়ায় শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। গত কয়েক মাসে হাতির পাল কেইপিজেডের বনায়ন করা বড়-বড় নারকেল গাছসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছপালা ও বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে। এতে অন্তত ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গেল কয়েক দিন ধরে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানের দৌলতপুর ফাজিলখাঁর হাট এলাকার মোহাম্মদ কালুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা করে বসতঘর ভাঙচুর ও ফসলি ধানের ক্ষতি করে হাতির পাল। এ ছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর গ্রামে হাতির আক্রমণে রুনা আক্তার (২৪) ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ সাইমন (৬) আহত হয়। এর আগে গত বছরের ১৩ জুলাই আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের

মোহাম্মদপুর গ্রামের আবদুর রহমান (৭০) নামে একজনকে মেরে ফেলে বন্যহাতি।

কেইপিজেডের শ্রমিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন কারখানা থেকে ইপিজেডের সড়ক দিয়ে বাড়ি আসার সময় হাতির আতঙ্কে ভুগি। দেয়াঙ পাহাড় থেকে হাতির পাল প্রতিদিন দিনেও সড়কে নেমে আসে।’

স্থানীয় দৌলতপুরের বাসিন্দা ও বড়উঠান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান খান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দেয়াঙ পাহাড় থেকে বন্যহাতি রাতে নেমে আসে লোকালয়ে। ক্ষতি করছে এলাকার মানুষের

ঘর-বাড়িসহ ফসলাদির। হাতিগুলো তাড়িয়ে দিতে প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিগুলো তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বন্য প্রাণী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরিজ বলেন, ‘হাতিগুলোর বিষয়ে বন বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য