kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

বান্দরবানে জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেলা সদরে রামজাদি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বৌদ্ধভিক্ষু উপঞা জোত মহাথেরর (উচহ্লা ভান্তে) বিরুদ্ধে ক্যাথলিক চার্চসহ আরো ১৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের শতাধিক একর জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার বান্দরবান শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন। এতে লিখিত বক্তব্য দেন বান্দরবান বড়ুয়া কল্যাণ সমিতি সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর দিলীপ বড়ুয়া। বোমাং রাজকুমার মংনুপ্রু চৌধুরী, ফাতেমা রানি ক্যাথলিক চার্চের পক্ষে চট্টগ্রাম ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশ-এর ফাদার জেরোম ডি’ রোজারিও এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংস্কৃতিকর্মী দিলীপ চক্রবর্তীসহ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জমি জবরদখল বিষয়ে জেলা প্রশাসন এবং ভূমি কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উচহ্লা ভান্তের পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জমি জবরদখল নিয়ে আদালতে অসংখ্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে আদালতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশ-এর ফাদার জেরোম ডি’ রোজারিও বলেন, ‘চার্চের মালিকানাধীন ৫ একর ৫৭ শতক জমিতে চাষ করে উৎপাদিত ফসল দিয়ে ৩৫০ দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীর আহারের জোগান হয়ে যেত। কিন্তু ২০০৭ সালে এই জমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় এদের ভরণপোষণ নিয়ে এখন আমরা অসহায়।’

ভূমিহারা আমেনা বেগম জানান, ওই জমিতে তাঁর মায়ের কবর রয়েছে। কিন্তু দখলবাজদের বাধার মুখে তিনি এবং তাঁর ভাই-বোনেরা নিজ জমিতে থাকাতো দূরের কথা, কবর জেয়ারত করতেও সেখানে যেতে পারছেন না।

রাজকুমার নুমং প্রু অভিযোগ করেন, উচহ্লা ভান্তে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে সড়ক বিভাগের জমিও দখল করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উচহ্লা ভান্তে এবং তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন সময়ে শতাধিক একর জমি জবরদখল করে নিয়ে কব্জায় রেখেছেন। এর মধ্যে ফাতেমা রানি ক্যাথলিক চার্চের ৫ একর ৫৭ শতক, মোহাম্মদ নুরুল আলম ও আবদুল মাবুদের ৫ একর, আবুল হাশেম, মোহাম্মদ জোবায়ের, আমেনা বেগম, মোহাম্মদ বাবুল ও মোহাম্মদ আবদুর রহিমের ১ একর ৭২ শতক, নবাব মিঞার ১ একর, কাজী মজিবুর রহমানের ১ একর ৩৬ শতক, হ্লাপাইমং মারমা, অতুল আসাম, জয়চন্দ্র ত্রিপুরা, হাকিলা ত্রিপুরা এবং জন বাহাদুর ত্রিপুরার  ৫ একর, মজিবুর রহমানের ৪ একর ৫০ শতক, ইমারু ত্রিপুরার ৪ একর, মহিদুর রহমানের ৫ একর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৩ একর ৫০ শতক, আমিনুল হকের ৩ একর, সোয়াইং হ্লা প্রুর ৪ একর, র ক ম নুরুল আলমের ৪ একর ৫০ শতক, নু মং প্রু চৌধুরীর ৮ একর, তৈদুহা ত্রিপুরার ৫ একর, মিরাজ শাহ নেওয়াজ আহমেদের মালিকানাধীন ৫ একর জমি রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বৌদ্ধভিক্ষু উপঞা জোত মহাথের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়গুলো বিচারাধীন। আদালত নির্ধারণ করবেন জমির প্রকৃত মালিক কে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা