kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-জেলে সংঘর্ষ-তাণ্ডব

দায়িত্বে অবহেলায় এসআই বরখাস্ত তিনজনকে প্রত্যাহার

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দায়িত্বে অবহেলায় এসআই বরখাস্ত তিনজনকে প্রত্যাহার

উপজেলার কুমিরা ঘাটঘর জেলেপাড়ায় জেলে-পুলিশ সংঘর্ষ, ভাঙচুর-তাণ্ডবের ঘটনায় গত ২২ দিনে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও এক এসআইকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে প্রত্যাহার করা হয় ওসি (তদন্ত) আফজালকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের বড়কুমিরা ঘাটঘর জেলেপাড়ায় সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ইয়াবা জব্দের অভিযানে যান সীতাকুণ্ড থানার এসআই জাহেদুল ইসলাম জসীম। সোর্সের ভুল তথ্যে তিনি প্রকৃত ইয়াবা পাচারকারীকে না ধরে নিরীহ জেলে রুবেল জলদাশকে ইয়াবা কারবারি উল্লেখ করে আটক করলে জেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাঁরা জসীমের ভাড়ায় নেওয়া মাইক্রোবাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং রুবেলকে ছিনিয়ে নেন। ওই ঘটনায় জেলে ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল সেখানে যান। কিন্তু ততক্ষণে কাছাকাছি থাকা পুলিশের দুই এএসআই এবায়দুল ও সাইফুল সেখানে উপস্থিত হয়ে আরো কয়েকজন নিরীহ জেলেকে আটক করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে আফজাল হোসেনসহ পরবর্তীকারী দল সেখানে গিয়ে পৌঁছে জনতার রোষানলে পড়েন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের ওপর-ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই থেকে পুলিশের আরো বেশ কয়েকটি দল সেখানে পৌঁছালেও পুলিশে পক্ষ নিয়ে বহিরাগত কিছু যুবক জেলেপাড়ায় ব্যাপক হামলা, শ্লীলতাহানি ও তাণ্ডব চালায়। কিন্তু ঘটনার পর ১১ জেলেকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ৬৫৯ জেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশও। তদন্তের প্রথম দিনেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলায় তাত্ক্ষণিক বদলি করা হয় দুই এএসআই এবায়দুল ও সাইফুলকে। এরপর আরো দুই সপ্তাহ তদন্ত শেষে ৫ জুন চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এসআই জাহেদুল ইসলাম জসীমকে। সর্বশেষ মঙ্গলবার বদলি করা হয় সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আফজাল হোসেনকে। ঘটনার দিন আফজাল হোসেন ছিলেন উদ্ধারকারী দলের সদস্য এবং তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতও হন। কিন্তু জেলেপাড়ায় ব্যাপক সংঘর্ষের সময় ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে অবগত করেননি আফজাল-এ অভিযোগসহ যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকেও বদলি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন বলেন, ‘জেলেরা পুলিশের কাছ থেকে রুবেলকে ছিনিয়ে নিয়ে হামলার খবর পেয়ে আমি উদ্ধারকারী দল হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। এরপর কি হয়েছে আপনারা সবাই জানেন। ঘটনা যা-ই হোক কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে আমাকে বদলি করেছে। আমি বদলির আদেশ পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আমাকে শিল্প পুলিশে যোগদান করতে বলা হয়েছে। আমি সেখানে যোগ দেব।’

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলওয়ার হোসেন জেলেপাড়ার ঘটনার জেরে এ পর্যন্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তার বদলি ও একজন বরখাস্তের কথা নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য