kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতা যাতায়াতে দুর্ভোগ

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতা যাতায়াতে দুর্ভোগ

কাপ্তাই হ্রদে পানি কম। চলাচল করতে না পারায় ঘাটেই দেড় মাস ধরে অলস পড়ে আছে লঞ্চ। ছবি : কালের কণ্ঠ

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা পার্বত্য রাঙামাটি। ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ছয়টির সঙ্গেই যোগাযোগের প্রধানতম উপায় কাপ্তাই হ্রদ। হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পরও সড়কপথ নির্মিত না হওয়া নৌপথই ভরসা এসব উপজেলার মানুষের। কিন্তু প্রতিবছর খরার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে আসে। তা এতটাই কমে যায় যে, বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ কিংবা পণ্যবাহী ইঞ্জিনচালিত বড় বোট চলাচল। বিকল্প হিসেবে ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট আর স্পিডবোট ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। শুধু তাই নয়, হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

গত প্রায় দেড়মাস থেকে রাঙামাটি শহরের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি এবং নানিয়ারচরের। ফলে এসব উপজেলায় বসবাসকারী প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ পড়েছে ব্যাপক বিড়ম্বনায়। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরে বেশ ঘোরাপথে সড়ক যোগাযোগ থাকলেও বাকি চার উপজেলায় নৌপথের কোনো বিকল্প নেই। পানি কমে যাওয়ায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার বিশাল আয়তনের কাপ্তাই হ্রদের বুকে জেগে উঠা চর ও টিলার কারণে ছোট ছোট  ইঞ্জিনবোট চলাও বেশ কঠিন হয়ে গেছে। ফলে ছয় উপজেলার মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। পণ্য পরিবহন কিংবা যাতায়াতে সময় ও ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়ছে না পানি, কাটছে না সংকট। তাই এসব উপজেলার মানুষ তাকিয়ে আছেন প্রকৃতির দিকেই।

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় কেন্দ্রের ৫ ইউনিটের মধ্যে সচল আছে এখন মাত্র একটি। সব ইউনিট সচল থাকলে যেখানে প্রায় ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, সেখানে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩৬/৩৮ মেগাওয়াট। সোমবার সকাল আটটায় কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ ছিলো ৭৩.২৩ এমএসএল (মেইন সি লেভেল), অথচ এই সময়ে পানি থাকার কথা ৭৮.৩৪ এমএসএল।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুর জাহের বলেন, ‘বছরের এই সময়ে কখনই পানি এত নিচে থাকে না। এ বছর এখনো বৃষ্টিপাত শুরু না হওয়ায় খুবই বিপাকে পড়তে হয়েছে আমাদের। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মাত্র একটি ইউনিট চালু আছে। আমরাও বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছি।’

রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য মো. জানে আলম বলেন, ‘লংগদুতে নৌপথ বন্ধ মানেই জীবন ও জীবিকার দুর্বিষহ অবস্থা। আমরা লংগদুবাসীই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছি হ্রদের পানি কমে যাওয়ায়। বৃষ্টি হতে যত দেরি হবে আমাদের কষ্ট তত বেশি দীর্ঘায়িত হবে।’

রাঙামাটির অন্যতম বৃহৎ বাজার মাইনী। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, ‘হ্রদের পানি অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় বাজারের পণ্য পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বড় বোটতো আসতেই পারছে না, ছোট ছোট বোটে পণ্য পরিবহনে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে, পর্যাপ্ত পণ্যও আনা যাচ্ছে না। আবার অনেক দূর থেকে পণ্য বাজারে তুলতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়তি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতি শনিবারের জমজমাট বাজারও এখন ঠিকমতো জমছে না। কারণ দূর থেকে মানুষজন আসতে পারছে না। এখন বৃষ্টি হওয়া ছাড়া পানি বাড়ার তো কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আমরা বৃষ্টির দিকেই তাকিয়ে আছি।’

 

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার জেলা সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, ‘হ্রদের ছয় উপজেলায় প্রায় ৪৫ যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে আমাদের। গত দেড় মাস যাবত সব বন্ধ। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আমাদের প্রায় ১৩০০ শ্রমিক দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। মানুষের ভোগান্তিরও শেষ নেই। বৃষ্টি হওয়া ছাড়া আপাতত কোনো সমাধান নেই।’

‘তবে বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে যদি সুভলং এর একটি পয়েন্টে সামান্য ড্রেজিংয়ের কাজ করত তবু অন্তত লংগদু নৌপথে ফোরেরমুখ পর্যন্ত লঞ্চ চালু রাখা যেত। কিন্তু তারা যেহেতু এটা করেননি আমাদের কিইবা করার আছে।’-যোগ করেন মঈনুদ্দিন সেলিম।

কাপ্তাই হ্রদের নৌ পরিবহন ও যাত্রীসেবা কিংবা উন্নয়ন নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর কোনো মাথা ব্যথা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা