kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ

এবার বিক্রেতাদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার বিক্রেতাদের সড়ক অবরোধ

মাছ বিক্রেতাদের অবরোধে গতকাল সকালে শাহ আমানত সেতু এলাকায় তীব্র যানজট। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জেলেদের পর এবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মাছ বিক্রেতা ও বোট মালিকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নগরের প্রবেশপথ কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে তাদের বিক্ষোভের কারণে প্রায় আধাঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

শুরুতে প্রায় শ খানেক মাছ বিক্রেতা ও নৌযান মালিক অংশ নিলেও পরে লোক সমাগম বেড়ে গেলে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। সোনালি যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতি যৌথভাবে এই কর্মসূচি শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় শাহ আমানত সেতুর উপর গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বাকলিয়াসহ আশপাশের এলাকায়ও যানজট তৈরি হয়। বিক্ষোভ শেষেও যানজট আধাঘণ্টারও বেশি স্থায়ী ছিল।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘১১টার দিকে মানববন্ধনে লোক সমাগম বেড়ে যায়। এ সময় তারা সড়কের উপর এসে বিক্ষোভ শুরু করলে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। তবে, পরে আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি।’

সোনালি যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সরকার বলেন, ‘ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। অথচ সরকার এখন জেলেদের সাগরে যেতে দিচ্ছে না। আমরা যারা মাছের ব্যবসা করি, আমাদের ঘরে এখন অভাব-অনটন। এজন্য আমরা রাস্তায় আসতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভাসান জাল ব্যবহার করি। আমাদের জালে ছোট মাছ ধরা পড়ে না। তাই এই নিষেধাজ্ঞায় আমাদের অন্তর্ভুক্ত করা অযৌক্তিক। ইলিশের প্রজনন মৌসুমেও ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকে, সেটা আমরা মেনে নিয়েছি। আষাঢ় মাসে ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু। এখন আমাদের সব বোট বসে আছে।’

এর আগে গত রবিবার সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে দেড়ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন নগরের পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৩৮টি জেলেপল্লীর বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ছোট নৌকা ও জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা যাবে না। পরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক তাঁদের নিয়ে বৈঠক করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের নৌযানের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও কাঁকড়াসহ কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মাছের মজুত সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ও সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করার স্বার্থে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর এসময় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। তবে ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ছিল ৪৫ দিন। এ বছর তা বাড়িয়ে ৬৫ দিন করা হয়েছে।

 

মন্তব্য