kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

বোয়ালখালীর ‘বাতিঘর’

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোয়ালখালীর ‘বাতিঘর’

সড়কবাতি স্থাপনের পর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও তদারক করেন কামরুল হাসান চৌধুরী নিজেই। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কবাতির মেরামতকাজের ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণসড়কে নিজের অর্থায়নে সড়কবাতি স্থাপন করে অন্ধকারে আলো ছড়াচ্ছেন মো. কামরুল  হাসান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। এ পর্যন্ত তিনি ২০টির মতো সড়কে বাতি স্থাপন করেছেন। প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার সড়কে শোভা পাচ্ছে এসব বাতি। আরো বেশ কয়েকটি সড়কে বাতি স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ জন্য তাঁর খরচ হয়েছে ২০ লক্ষাধিক টাকা। সড়কবাতির কারণে এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি রাতের আঁধারে পথচারীরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারছেন।

কামরুল হাসান চৌধুরী বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব গোমদণ্ডী চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। কাজের প্রয়োজনে সপরিবারে থাকেন চট্টগ্রাম নগরে। কিন্তু নাড়ির টানে বোয়ালখালীর জন্য নিবেদিতপ্রাণ তিনি। এলাকার অলিগলি সড়কবাতি দিয়ে আলোকিত করার তাঁর এ মহতি উদ্যোগ এলাকায় বেশ নাড়া দিয়েছে।

বোয়ালখালী পৌরসভার মুফতিপাড়া সড়ক। চারদিকে ঘনবসতি। বিদ্যুৎ নেই। চারপাশে গোর অন্ধকার। অন্ধকারে পথ চলতে হত বাসিন্দাদের। শনিবার সন্ধ্যায় ওই সড়কে মিনিট দশেক পথ চলতেই হঠাৎ চারদিকে আলোকিত হয়ে উঠল। সড়কের যতদূর চোখ যায় দুপাশেই আলোর ঝলকানি।

স্থানীয়রা জানান,  কামরুল হাসান নিজ খরচে এসব সড়কবাতি স্থাপন করেছেন। শুধু চৌধুরীপাড়া সড়ক নয়, মুফতিপাড়া, আবদুর রহমান চেয়ারম্যান, হায়দার আলীর বাড়ি, চালতাতলী, অলি বেকারী, মুনার মার মসজিদ জনতা সড়ক, টিলার বাড়ি সড়ক, চৌধুরীপাড়া নতুন বাড়ি, রেল বিট, অধীর মাস্টার বাড়ি, বিপতি মাস্টার বাড়ি, সরকার বাড়ি, কতুব বাড়ি ও করিম উদ্দিন মুন্সী বাড়ি সড়কসহ প্রায় ২০টির মতো সড়কে বাতি স্থাপন করে তিনি এলাকার অন্ধকার দূর করেছেন। এতে সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি রাতের আঁধারে পথচারীরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারছেন।

জানতে চাইলে মো. কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এলাকায় আসা-যাওয়া করার সময় দেখতে পাই এলাকায় বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু সড়কে আলো নেই। এলাকার রাস্তাঘাট অন্ধকার। ঘুট-ঘুটে অন্ধকারে পথ চলতে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাই এলাকার সড়কগুলোকে আলোকিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে কাজ করতে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসীর সহায়তায় সফলভাবে সড়কবাতি স্থাপনের কর্মসূচিটি চালিয়ে যাচ্ছি।’

জানালেন, সড়কবাতি স্থাপনের সব খরচ নিজেই জোগান দেন তিনি। তবে সড়কবাতির বিদ্যুৎ বিল দেয় বোয়ালখালী পৌরসভা।

কামরুল হাসান চৌধুরী আরো বলেন, ‘চাচাতো ভাই মরহুম মৌলানা সোলাইমান চৌধুরীর ছেলে মো. হাফেজ সালাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে এলাকার সড়কে নিজের অর্থায়নে বাতি স্থাপন করেন। তাঁর এ উদ্যোগ দেখে সড়কবাতি স্থাপনে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।’

তিনি জানান, ২০১৮ সালে তিনি এলাকার আলোহীন সড়কে বাতি স্থাপনের কর্মসূচি শুরু করেন। ৩০টি সড়কবাতি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। ইলেট্রিশিয়ানসহ ১০ শ্রমিক তাঁর এ কাজে সহায়তা করেন।

‘সরকারের গ্রামকে শহর করার প্রয়াসে অংশ নিয়ে স্বউদ্যাগে সড়কবাতি স্থাপন করছি। আমার উদ্যোগ দেখে সমাজের আরো অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসবেন বলে আমার বিশ্বাস। এতে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’-যোগ করেন কামরুল হাসান।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌলানা মো. গোলাম সরোয়ার চৌধুরী ও হাফেজ মো. মোস্তাক খান বলেন, ‘সড়কবাতির কারণে এলাকার চিত্র পাল্টে গেছে। মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। কমেছে এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও অপরাধ। হাসানের সড়ক আলোকিত করার কাজ মহৎ উদ্যোগ। শুধু সড়কবাতি নয়, কামরুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল-কলেজসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক  সংগঠনে পৃষ্ঠপোষকতা করার পাশাপাশি মানুষের জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্তব্য