kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মাতামুহুরী সেতু নির্মাণ প্রকল্প

ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকরিয়ার চিরিঙ্গায় ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতুর চূড়ান্ত নির্মাণকাজ শুরুর প্রাক্কালে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমি মালিকদের না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মালিক নন কিন্তু জায়গা দখলে রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ায় প্রকৃত ভূমি মালিক ও দখলদারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত ভূমি মালিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন এসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে জায়গা পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সাক্ষ্য নেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক।

এ প্রসঙ্গে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গায় ছয় লেনের সেতু নির্মাণকাজ চূড়ান্তভাবে শুরু করার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এর আগে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু কিছু ভূমি মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা প্রাপ্তি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করায় তা সরজমিন তদন্ত করা হচ্ছে। বৈধ মালিকানার স্বপক্ষে যথাযথ কাগজপত্র অর্থাৎ খতিয়ানমূলে যিনি জমির মালিক তিনিই ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমিতে যিনিই দখলদার হিসেবে রয়েছেন তিনিও ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবেন। সেটি ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালায়ও রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতু নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোপূর্বে চারটি নোটিশ জারি করা হয় ভূমি মালিকদের প্রতি। এর পর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বেশির ভাগ মালিককে ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকাও বিতরণ করা হয়।

তবে জমির মালিকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকৃত ভূমি মালিকদের উপেক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম দফায় সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন চিরিঙ্গা মৌজার ১৬ নম্বর খতিয়ানের সৃজিত ১০১৩ নম্বর খতিয়ান ও বিএস ২৯০ দাগের ১০ শতাংশ জায়গার মালিক পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের মোজাহের আহমদের পুত্র শামশুল আলম ও কায়সার আলম।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক কায়সার আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে নিতে আমাদেরকে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসন থেকে। সর্বশেষ নোটিশ ইস্যুর পর আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে জানতে পারি উল্লিখিত জমির দখলদার পরিচয়ে জাকারিয়া নামের একব্যক্তি ক্ষতিপূরণের বেশির ভাগ টাকা তুলে নিয়েছেন।

সামশুল আলম অভিযোগ করেন, জাকারিয়া একই মৌজার ১৯৬ সৃজিত খতিয়ানের ২৯০নং দাগের মাত্র ১ দশমিক ৫০ শতক জমির মালিক। কিন্তু তিনি কতিপয় দালাল চক্রের যোগসাজশে সুকৌশলে আমাদের জমির অনুকূল ক্ষতিপূরণের টাকাও লুটে নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, ‘যেসব খতিয়ান ও দাগের জমির বিষয়ে আপত্তি উঠেছে, সেসব আপত্তি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণ প্রয়োজনে বন্ধ রাখা হবে।’

মন্তব্য