kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

সুবর্ণচরে গৃহবধূর লাশ

তুচ্ছ ঘটনায় গাড়িচালক খুন চন্দনাইশে

নোয়াখালী ও চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব এলাহাবাদ এলাকায় এক গাড়িচালক খুন হয়েছেন। নিহতের নাম মো. রফিকুল ইসলাম (৩৫)। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ভাই মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর বড় ভাই স্থানীয় একটি ইটভাটায় পিকআপে মাটি সরবরাহ করতেন। গত শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে মাটি সরবরাহ করার সময় তাঁর ভাইয়ের পিকআপের সামনে আরেকটি পিকআপ হঠাৎ ব্রেক করলে পিকআপের পিছন দিকে সামান্য ধাক্কা লাগে। এ সময় ধাক্কা লাগা পিকআপের চালক নতুনপাড়া এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে জয়নাব আলী তাঁর পিকআপের সামনের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে টাকা দাবি করেন। এতে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে পুনরায় জয়নাব আলী তাঁর ভাই রফিকের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জয়নাব আলী ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেন রফিককে এবং চড় থাপ্পড় মারেন। এ সময় বেশ কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছুরি, রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতে তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর ভাই রাত ৩টার দিকে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় তাঁদের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে আবারও হামলা করেন জয়নাব আলী ও তাঁর সঙ্গীরা। হামলায় রফিক গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কিছুদূর এলেও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মাহাবুব আলম আখন্দ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় শরীরে কোনো রকম আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।’

সুবর্ণচরে গৃহবধূর লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা : নোয়াখালী  সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রাম থেকে বুধবার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় সাজেদা আক্তার সাথী (২৪) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় স্বামী সিরাজুল মাওলা তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছেন। এ ঘটনায় নিহতের মা রাশেদা বেগম স্বামী সিরাজুল মাওলাসহ ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত সাজেদা আক্তার সাথী একই এলাকার আলাউদ্দিনের মেয়ে।

নিহতের মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘দুই বছর আগে একই গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে সিরাজুল মাওলার সাথে আমার মেয়ে সাজেদা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশ চলে যায়। তার পর থেকে সাজেদা আক্তার আমাদের বাড়িতে থাকত। এরই মধ্যে তার পরিবারের লোকজন আমাদের কাছে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ১৫ দিন আগে স্বামী সিরাজুল মাওলা বিদেশ থেকে এসে স্ত্রীকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বুধবার ভোররাতে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন সাজেদা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে রাখে এবং আমাদের খবর দেয়, সে নাকি আত্মহত্যা করেছে।’ 

চরজব্বর থানার ওসি শাহেদ উদ্দিন মায়ের দায়ের করা হত্যা মামলার কথা স্বীকার করে জানান, পুলিশ সকালে খবর পেয়ে সাথীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা বলা যাবে না এখন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে অপমৃত্যু হিসেবে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

মন্তব্য