kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

শিশুকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী

উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের কাজীরখীল এলাকায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ ভবনে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে ভবনের ছাদ ঢালাই করা হলে ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনার বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে আসেন চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ ও সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন। নির্বাহী প্রকৌশলী নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ঠিকাদারের লোকজনকে সতর্ক করে খোয়াগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই হাসপাতাল নির্মাণের এই কাজ পায় ডি ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের কংক্রিট (খোয়া) দিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান, মেম্বার, জমিদাতাসহ অনেকে ভিড় জমিয়েছেন নির্মাণাধীন ভবনের পাশে। তাঁদের একটাই দাবি, ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের জন্য আনা নিম্নমানের খোয়া দিয়ে ছাদ ঢালাই করতে দেওয়া হবে না। বার বার সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হলেও ঠিকাদারের লোকজন কর্ণপাত করেননি। তাই বাধ্য হয়ে সবাই জড়ো হয়ে কাজে বাধা দিয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য আবু তাহের, আবুল হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মোনাফসহ এলাকাবাসীর অনেকে বলেন, ছিপাতলীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির ফল এই কেন্দ্র। গত বছরের জুন মাসে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধনের চার মাস পরেই কাজ শুরু করে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বেইজ ঢালাই এবং বিম বাঁধার সময়েও তারা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকাবাসী বাধা দিয়েছিলেন। পরে তাঁরা সঠিক ও উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করায় এলাকাবাসী কিছু বলেননি। কিন্তু ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের জন্য রাতের আঁধারে নিম্নমানের খোয়া নিয়ে আসার খবর পান স্থানীয়রা। এখানে এসে এর সত্যতাও পান।

জমিদাতা এম কে ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আনোয়ারুল আজিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শুধু জনস্বার্থে মা ও শিশু হাসপাতাল করার জন্য ৪৫ শতাংশ জমি দান করেছি। কিন্তু কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি যা শুরু করল তাতে আমরা সত্যিই লজ্জিত। সরকারতো টাকা কম দিচ্ছে না, তাহলে কেন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি? আজ যদি এলাকাবাসী প্রতিবাদ না করতেন তাহলে নিম্নমানের খোয়া দিয়েই ভবনের ছাদ ঢালাই হয়ে যেত। আর ছাদ ধসে মারা পড়ত এলাকার লোকজন।’

নিম্নমানের খোয়ার ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডি ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার তপু বলেন, ‘এলাকার জনৈক সরবরাহকারী নিম্নমানের খোয়াগুলো এনেছে। চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ খোয়াগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।’

জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। আমি ঠিকাদারের লোকজনকে সতর্ক করে খোয়াগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি এবং সেখানে আর খোয়া ঢুকবেনা ইট ঢুকবে। স্পটেই ইট থেকে খোয়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছি।’

মন্তব্য