kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

পেকুয়ায় নারীদের সরব উপস্থিতি

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেকুয়ায় নারীদের সরব উপস্থিতি

পেকুয়ায় জিএমসি ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্র সকাল সাড়ে ১০টায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও দুর্বৃত্তদের সকল ধরনের ভয়ভীতি ও আতঙ্ক উপেক্ষা করে সাধারণ ভোটাররা সকাল থেকে ভোট প্রদান করেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে। তবে পুরুষের চেয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। কোনো কোনো কেন্দ্রে দুপুরের পর থেকে ভোটার উপস্থিতি নগণ্য হলেও আবার কোনো কেন্দ্রে বিকেলেও ভোট দিতে আসেন ভোটাররা। সবমিলিয়ে প্রশাসনের আন্তরিকতায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি ভোট উপহার পেয়েছেন পেকুয়াবাসী।

সরেজমিন পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সিংহভাগ কেন্দ্র ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে। এখানে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ চেয়ারম্যান পদে তিনজন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জনসহ ১২ জন  নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব-উল করিম বলেন, ‘সকালের দিকে মগনামা ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ছাড়া বাকি ৩৯টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।’

দুপুরের দিকে টৈটং ইউনিয়নের মাদরাসা কেন্দ্রে দেখা হয় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের এস এম গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, ‘রাতভর মগনামা ও টৈটং ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র ভোট ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতি সঞ্চার হলে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয়ে উঠেন। এতে সাধারণ ভোটাররা সকাল থেকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।’

আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দোয়াত কলম প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য ভোট ডাকাতরা অনেক চেষ্টা করেছিল। বিশেষ করে মগনামা ইউনিয়নে নব্য আওয়ামী লীগ বনে যাওয়া যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর দেহরক্ষী বিএনপি নেতা শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম তার বাহিনী দিয়ে ভোটের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চেয়েছিল। তবে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তারা সুবিধা করতে পারেনি।’

আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নৌকা প্রতীকের আবুল কাশেম দুপুরের দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দোয়াত কলম প্রতীকের লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’ 

এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলম বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ ছাড়াই প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় চকরিয়ার মতো পেকুয়ায়ও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় আমিও ব্যক্তিগতভাবে খুশি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা