kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বান্দরবান, চকরিয়া ও দীঘিনালা

কাল ভোট, কঠোর নিরাপত্তা

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



কাল ভোট, কঠোর নিরাপত্তা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে আগামীকাল সোমবার বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাত উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়া ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ভোটগ্রহণ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

বান্দরবান : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী নামানো হচ্ছে এখানে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সব কটি উপজেলায় প্রার্থী দিয়েছে। তবে লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন দল।

বিএনপি-জামায়াত এই নির্বাচন বয়কট করলেও বান্দরবান সদর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবদুল কুদ্দুছ এবং আলীকদম উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। তাঁরা যথাক্রমে এ কে এম জাহাঙ্গীর ও মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাঠ জমিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে রোয়াংছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বধীন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। ওই তিন উপজেলায় তাঁরা বর্তমান চেয়ারম্যান। ফলে এবারেও তাঁদের পদ কেড়ে নেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

লামা উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা জামালের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন একই দলের রফিক আহমদ। জাতীয় পার্টির সেতারা বেগম নামে আরো একজন প্রার্থী থাকলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দুদিন পর তিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটার বিশিষ্ট এই উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভ অনেকটা নিশ্চিত।

তবে ক্ষমতাসীন দল সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এখানে চেয়ারম্যান পদে যে চার প্রার্থী রয়েছেন-তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, শত চেষ্টা করেও তাঁদের দলীয় শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শফি উল্লাহ (নৌকা) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তাহের কম্পানীর (মোটরসাইকেল) মধ্যে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতা দুই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় এমন জটিল অবস্থা দেখা দিয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুল আলম (আনারস) ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চোচু মং মারমা (উড়োজাহাজ) প্রার্থী হলেও তাঁদের অবস্থান ততটা শক্ত নয়।

চকরিয়া : প্রার্থীদের প্রচার শেষ হয়েছে শনিবার মধ্যরাতে। এর পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে। চেয়ারম্যান পদে চারজন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজনসহ মোট ১২ প্রার্থী উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার শেষ করেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফজলুল করিম সাঈদীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল বেশি। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা শেষ হয়েছে এখানে।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত বলেন, ‘শতভাগ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অতীতের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে এবারের নির্বাচনে ১৮টি ইউনিয়নের জন্য একজন করে এবং পৌরসভার জন্য দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন একজন।’

তিনি জানান, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ইতোমধ্যে চকরিয়ায় অবস্থান করছেন। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আরো বাড়তে পারে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি প্রতিকেন্দ্রে অন্তত ১০ আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন নিরাপত্তায়।

নির্বাচনে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘নির্বাচন হবে শতভাগ সুষ্ঠু। তাই সকল প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর পরও যদি কোনো ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা অনিয়ম করার চেষ্টা করেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে এবং ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে। কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে না। সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে যা যা করার দরকার এর সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ব্যালটে কেউ হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক গুলি করা হবে। এক্ষেত্রে সে কে তা দেখা হবে না। নির্বাচনে পুলিশের প্রায় ১১০০ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।’

র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার মেজর মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করাসহ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবের দুই প্লাটুন সদস্য নিয়োজিত থাকবে।’

দীঘিনালা : শনিবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়েছে প্রচার। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা জানান, কোনো রকম অভিযোগ বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই প্রচারণার সময় কেটেছে। আজ রবিবার সকল কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্বপালনকারীদের সরঞ্জামাদিসহ পৌঁছে দেওয়া হবে। ২৮ কেন্দ্রের মধ্যে দুর্গম নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে শুক্রবার হেলিকপ্টারযোগে দায়িত্বপালনকারীদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে দীঘিনালায় ৩টি পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি মো. কাশেম, আনারস প্রতীকে জেএসএস (এম এন লারমা) নেতা প্রফুল্ল কুমার চাকমা এবং হেলিকপ্টার প্রতীকে ইউপিডিএফ (প্রসিত) সমর্থিত উমেশ কান্তি চাকমা। ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল মিন্টু, তালা প্রতীকে জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্থিত সমদানন্দ চাকমা এবং চশমা প্রতীকে ইউপিডিএফ (প্রসিত) সমর্থিত সুসময় চাকমা। আর নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন কলস প্রতীকে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সীমা দেওয়ান, বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে একই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদিকা লিপি দেওয়ান এবং প্রজাপতি প্রতীকে জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্থিত গোপাদেবী চাকমা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা