kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইভটিজিংয়ের ভিডিও ফেসবুকে

সেই বখাটে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই বখাটে গ্রেপ্তার

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার তানভীর আহমেদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্রী ফারহেনা নওরীন কদমতলী এলাকা থেকে রিকশায় বাসায় ফেরার সময় ইভটিজিংয়ের শিকার হন গত ৬ মার্চ। বখাটেরা তাঁর ওড়না ধরে টান দেয় এবং রিকশার সামনে দাঁড়িয়ে অশ্লীল কথা বলে। এ সময় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করেন ফারহেনা। এক পর্যায়ে নিজের মোবাইল ফোনে তাঁদের ভিডিও ধারণ শুরু করেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সরে গিয়েছিল বখাটেরা।

কিন্তু ঘটনা সেখানেই শেষ হয়নি। ফারহেনা নওরীন সেই ভিডিও আপলোড করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ সময় কলেজ ছাত্রী বখাটেপনার প্রতিবাদ করেন এবং বখাটেদের ধরতে পুলিশের প্রতি দাবিও জানান।

বখাটেপনার এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পরই বখাটে ধরতে তৎপর হয় কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এরই জের ধরে গতকাল শনিবার ভোরে নগরের বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর বাইদ্দারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বখাটে তানভীর আহমেদকে। তানভীর ওই এলাকার আবদুল হকের ছেলে। ঘটনার দিন ব্যবহৃত বখাটে তানভীরের মোটরসাইকেলটিও পুলিশ জব্দ করে।

তানভীরকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে কোতোয়ালী থানায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশ। এ সময় ঘটনার শিকার ছাত্রী ফারহেনা নওরীন থানায় হাজির হন। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘ইভটিজিংয়ের সময় ফারহেনা ভিডিও ধারণ করেন। এই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করার পর থেকেই পুলিশ ঘটনায় জড়িত বখাটেকে গ্রেপ্তারের তৎপরতা শুরু করে। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হই, বখাটে বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘বখাটের আরো সহযোগী আছে কি না, তা যাচাই করে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।’

মুখ বুজে সহ্য না করে প্রতিবাদের আহ্বান ফারহেনার : সংবাদ সম্মেলনের সময় অফিসার ইনচার্জের পাশে বসা ফারহেনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইভটিজিংসহ নারীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের প্রতিবাদ হলে অপরাধীরা আর এই ধরনের অপরাধ করতে সাহস পাবে না।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বখাটেরা আমার ওড়না ধরে টান দেয়। আমার রিকশা দাঁড় করিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে। এ সময় মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করি। ভিডিও ধারণের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা সরে পড়ে। শেষে আমি বাসায় ফিরে যাই। ইভটিজিংয়ের সময় আমি বখাটের উদ্দেশ্যে থাপ্পর দেব বলি।’

বখাটেকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফারহেনা বলেন, ‘এই ধরনের বখাটেদের আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে অন্যরা সাহস পাবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা