kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সম্ভাবনার হাতছানি

কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে শুঁটকিখলা

হুমায়ূন কবির শাহ্ সুমন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে শুঁটকিখলা

কর্ণফুলীর ওপাড়ে গড়ে উঠা শুঁটকিখলায় রোদে এভাবে শুকানো হয় শুঁটকি। ছবি : কালের কণ্ঠ

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে গড়ে উঠছে শুঁটকিখলা। এতে কাজ করেন শতাধিক নারী-পুরুষ। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে স্থায়ী হতে পারে শুঁটকিপল্লী। উঁকি দিচ্ছে বিপুল সম্ভাবনাও।

কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা, ইছানগর, খোয়াজনগর, জুলধা ডাঙারচর, শিকলবাহা কালারপোল এলাকায় রোদে শুকানো হয় শুঁটকি। নদীতীরবর্তী হওয়ায় এখানে মাছ সংগ্রহ ও শুঁটকি বাজারজাত করা সহজ। সারি সারি বাঁশের মাচাং তৈরি করে এর উপর মাছ রেখে শুকানো হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ নৌকা থেকে মাথায় করে শুঁটকিখলায় নিয়ে যাচ্ছেন মাছ। আর কেউ শুঁটকি তৈরির জন্য মাছ বাছাই করছেন। শুকানোর পর শুঁটকি ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখছেন কেউ কেউ। শতাধিক মাচাংয়ে প্রতিদিন চলে শুঁটকি শুকানোর কাজ।

ছুরি, লইট্ট্যা, ফাইস্যা, পোয়া, লাল পোয়া, চাপাকড়ি, কোরাল, চান্দা, কালো চান্দা, টইন, চাপিলা, মইল্যা, কামিলা, পোটকা, কলম্বো, চইক্কা, সলফিশ, মিশালি প্রজাতির মাছ শুকানো হয় বেশি। মাছ শুকাতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল কিংবা বিষাক্ত কিছু মেশানো হয় না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মাছ সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রোদে শুকানোর কারণে এই এলাকার শুঁটকি স্বাদে-গন্ধে ক্ষেত্রবিশেষে দেশের প্রসিদ্ধ সোনাদিয়া-রাঙাবালির শুঁটকিকেও ছাড়িয়ে যায় বলে কর্মরত শ্রমিকদের দাবি।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, নগরের ফিশারিঘাট মৎস্য আড়ত মাঝিরঘাট কর্ণফুলী কোল্ডস্টোরেজ থেকে শুঁটকি তৈরি করার জন্য হিমায়িত মাছ সংগ্রহ করা হয়। সাগর থেকে মাছ ধরে কর্ণফুলী নদীতে আসা ফিশিং জাহাজ থেকেও সরাসরি সামুদ্রিক মাছ সংগ্রহ করা হয়। নদীর তীরবর্তী জাহাজ থেকে সহজে সংগ্রহ করে মাছ দ্রুত সময়ে মাচাংয়ে নিয়ে শুকানো হয়। ফলে শুঁটকির মান ও স্বাদ খুবই ভালো থাকে। এখানে শুঁটকি তৈরিতে খরচ তুলনামূলক অনেকটা কম। নদী ও সাগর থেকে আহরণ করা মাছ সহজে ও কম পরিবহন খরচে এখানে আনা যায়। নৌপথে সহজে এখানের শুঁটকি নগরের আছদগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।

মাছ শুকানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ছোট মাছগুলো রোদে শুকাতে ৩ থেকে ৪ দিন লাগে। লবণ দিয়ে শুকালে ৩ দিন লাগে। লবণ ছাড়া শুকাতে ৪ দিন লাগে। মাসে ৭ থেকে ১০ বার শুঁটকি উঠে একটি মাচাং থেকে। ছুরি, লইট্টা কিংবা কামিলা মাছ ঝুলিয়ে এবং মিশালি ও ছোট মাছগুলো মাচাংয়ের চাটাইয়ে ছড়িয়ে শুকানো হয়। বছরের নয় মাসই শুঁটকি তৈরির কাজ চলে। বাকি তিন মাস বর্ষার কারণে বন্ধ থাকে। সারাদিন কাজ করলে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পান পুরুষ শ্রমিকরা। নারী শ্রমিকরা পান ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

শুঁটকি ব্যবসায়ী নুরুল আবছার বলেন, ‘মাছ শুকাতে আমাদের এখানে কোনো ধরনের কেমিক্যাল কিংবা বিষাক্ত দ্রব্য মেশানো হয় না। অন্য এলাকার শুঁটকির চেয়ে আমাদের এ শুঁটকির ঘ্রাণ আলাদা, খেতেও সুস্বাদু।

‘আছদগঞ্জে আমাদের শুঁটকি সোনাদিয়া থেকে আসা শুঁটকির চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়। কর্ণফুলীর মুখরোচক শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, হংকং, চীন ও তাইওয়ানের মতো দেশেও আমাদের শুঁটকির কদর রয়েছে।’-যোগ করেন ব্যবসায়ী আবছার।

কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) লুৎফুর রহমান বলেন, ‘কর্ণফুলী উপজেলার কিছু এলাকায় শুঁটকি শুকানো হচ্ছে। এখানে জেলে ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেলেদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা