kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

খালি হাতেই চাকরিচ্যুত ৫ হিল আনসার সদস্য

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালি হাতেই চাকরিচ্যুত ৫ হিল আনসার সদস্য

একদম খালি হাতেই চাকরিচ্যুত করা হল ৫ হিল আনসার সদস্যকে। এমনকি অ-অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদেরকে শেষ মাসের (ফেব্রুয়ারি ২০১৯) বেতনভাতাও না দিয়ে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর ফলে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার ৬০০ হিল আনসার সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ‘হিল আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী’র ৫ সদস্যকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই শংকার কথা জানান তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

তাঁরা অভিযোগ করেছেন, খাগড়াছড়ি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল আলম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি একযোগে ৫ আনসার সদস্যকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছেন। চাকরিকাল শেষ হয়েছে মর্মে নোটিশ দিয়ে হিল আনসার সদস্যদের অ-অঙ্গীভূত করা হয়। একই তারিখে মতামতসহ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে চিঠি দেন এই কর্মকর্তা। চাকরির বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় ওই সময়কালে নেওয়া অতিরিক্ত বেতন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুত হিল আনসার সদস্যরা হলেন, মাটিরাঙার ইমান আলী ও রুহুল আমিন, পানছড়ির মো. আবু তালেব, খাগড়াছড়ি সদরের মো. আ. সামাদ ও আব্দুল কাদের।

আকস্মিক চাকরিচ্যুতির ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন হিল আনসার সদস্যরা। এতে অন্য হিল আনসার সদস্যদের মধ্যেও হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন চাকরিচ্যুত ৫ হিল আনসার সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁরা জেলা কমান্ড্যান্ডের একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তাঁরা হিল আনসার সদস্যদের পেনশন ও এককালীন অনুদানসহ সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকরিচ্যুত মো. আ. সামাদের সন্তান ইদ্রিস আলী।

হিল আনসার সদস্য আব্দুস সামাদ দাবি করেছেন, ‘ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি খাত থেকে বেতনভাতা, উৎসবভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছি। হিল আনসারদের চাকরি স্থায়ী করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে। হঠাৎ করেই চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক।’

চাকরিচ্যুত হিল আনসার সদস্য মো. ইমান আলী ও আবু তালেব বলেন, আমরা একেকজন ৩০/৩২ বছর ধরে চাকরির পর খালি হাতে বাড়ি ফিরে কী করব। ছেলেমেয়েদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা ছাড়া কোনো পথ নেই।’ ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিল আনসার সদস্যদের চাকরিও স্থায়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে তারা দাবি করেন।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে তৎকালীন বিরাজমান পরিস্থিতিতে খাগড়াছড়িতে ৪৮০ জন এবং রাঙামাটিতে আরো ১২০ জনসহ মোট ৬০০ হিল আনসার সদস্যকে নিয়োগ দেয় সরকার। এই বাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সহায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল আলম জানান, হিল আনসার নীতিমালা ২০১০ এবং বাংলাদেশ আনসার বাহিনী আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখানে অন্যায্য কোনো পন্থার আশ্রয় নেওয়া হয়নি। কারণ তাদেরকে পেনশন বা এককালীন অনুদান দেওয়াসহ কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিধান নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা