kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সীতাকুণ্ড

ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। ডাকাতদল প্রতিরাতেই একাধিক বাড়ি-ঘর কিংবা মহাসড়কে হানা দিচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে মহাসড়কে পরিবহন ও দুটি ঘরে হানা দিয়ে লুটপাট চালায় ডাকাতরা। এ সময় বাধা দেওয়ায় এক গাড়িচালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

জানা গেছে, সোমবার রাতে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের দুটি ঘরে হানা দেয় ডাকাত দল। এর মধ্যে কেদারখীল গ্রামে স্বর্ণ ব্যবসায়ী রাজমোহন দাশের বাড়ির গ্রিল কেটে ৫-৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট হয়। পরে এলাকাবাসী ডাকাত ডাকাত চিৎকার শুরু করলে তারা পালিয়ে গিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ডা. আমিরুজ্জামানের ঘরে ডাকাতির চেষ্টা করে। সেখানেও এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। এ ঘটনার পর রাত তিনটার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে উপজেলাধীন মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায়। এখানে ডাকাতরা সুন্দরবন কুরিয়ারের একটি ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে চালক গিয়াস উদ্দিনকে (৪৩) কুপিয়ে জখম করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করায়। তিনি লাকসাম নাঙ্গলকোট থানার জগন্নাথ দিঘির পাড় চিওড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে।

চালক মো. গিয়াস উদ্দিন (৪৩) জানান, রাত তিনটার দিকে তিনি কুরিয়ারের গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া আসার পর সাদা মাইক্রোবাস যোগে একদল রোড ডাকাত এসে গাড়ির গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং কুরিয়ারের মালামাল লুটের চেষ্টা চালায়। তিনি বাধা দেওয়ায় তাঁকে দুই পা ও হাতে কুপিয়ে জখম করে। গত সপ্তাহে একই কায়দায় মহাসড়কে এস এ পরিবহনের একটি গাড়ি ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সৈয়দপুরের ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী ও কেদারখীলের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম ডাকাতির ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রামবাসী রাত জেগে ডাকাত পাহারা দিচ্ছেন। গত সপ্তাহে আমাদের ইউনিয়নে চার ঘরে চোর-ডাকাত হানা দিয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতরা নুর হোসেনের ঘর থেকে মালামাল লুট করলেও দুই ঘরে এলাকাবাসীর চিৎকারে ব্যর্থ হয়। একই সময়ে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের পূর্ব লালানগর গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিরাতে হানা দিচ্ছে ডাকাতরা।

অবশ্য পুলিশ ডাকাতি প্রতিরোধে বারৈয়াঢালায় উঠান বৈঠক, ডিফেন্স কমিটিসহ নানান পদক্ষেপ নিয়েও ডাকাত প্রতিরোধ করতে পারছে না। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘সোমবার রাতে রাজমোহনের ঘরে ডাকাতি হয়নি, চুরি হয়েছে। আর অন্য বাড়িতে হানা দিলেও ডাকাতরা সফল হয়নি। মহাসড়কে ডাকাতির শিকার গাড়িচালকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ডাকাত প্রতিরোধ আমরা বিরামহীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ১৭-১৮ জন ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে। যেকোনো উপায়ে ডাকাতি বন্ধ করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা