kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন শুনানিতে হট্টগোল

এজলাস থেকে নেমে গেলেন বিচারক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন শুনানিতে হট্টগোল

চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় গতকাল নগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সংসদ নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন শুনানিতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে শুনানি অসমাপ্ত রেখে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক।

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসের মৃধার আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া ১১টি মামলায় নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ প্রায় ৭০ জন আসামি জামিন নিতে আদালতে হাজির হন। এদের প্রত্যেকেই হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিনে ছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।

এর মধ্যে প্রথম মামলার শুনানি শেষে আদালত ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরা হলেন বিএনপির মাসুদুল্লাহ জাহিদী, মাহবুবুল আলম, নূর আলম, গুলজার হোসেন, ইলিয়াস শেঠ ও শাহ আলম।

দ্বিতীয় মামলায় আরও দুজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদেরও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপরই মূূলত হট্টগোল শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি ও চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘৮ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার পরই বিএনপির নেতাকর্মীদের আইনজীবীরা হৈ চৈ শুরু করেন। এর পরই শাহাদাত, বক্কর ও সুফিয়ানের মামলার শুনানি ছিল। তাঁদেরও জামিন হবে না ভেবে ২০-৩০ জন আইনজীবী মিলে আক্রমণাত্মক ও অশোভন ভাষায় আদালতে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় আমার সঙ্গে তাঁদের বাকিবতণ্ডা হয়। কিন্তু নজিরবিহীনভাবে তাঁদের আচরণ ছিল আদালতের প্রতি অসম্মানজনক।’

এই অবস্থায় দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান বলে জানিয়েছেন পিপি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুধু সময়ের আবেদন করে যাচ্ছিলেন। আমি এর বিরোধিতা করেছি। কারণ তাঁরা সময় ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিলেন। অথচ এর আগেও একই আদালত থেকে একই ধরনের মামলায় পৃথকভাবে ৪০৩ জন আসামি কারাগারে গেছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে, কোনো মামলার এজাহারে নাম থাকলেই জামিন নামঞ্জুর করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তবেই কারাগারে পাঠানো যাবে। কিন্তু আদালত মেরিট বিবেচনা না করে আসামির রাজনৈতিক পরিচয় দেখে তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন। এই অবস্থায় আমরা শুনানি না করে চলে এসেছি। আমরা আদালতকে বলেছি, মেরিট বিবেচনা করা না হলে শুনানিতে অংশ নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।’

আদালত সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত বিচারক আর এজলাসে আসেননি। বাকি ৯টি মামলার শুনানির জন্য ২৫ মার্চ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা