kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব

পাহাড়ে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাহাড়ে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত

ফেনীর দাগনভূঁঞায় ভাষাশহীদ সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

গেল তিন বছর ধরে পাহাড়ের তিনটি পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা পাচ্ছে মাতৃভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ। বাংলা, ইংরেজি মাধ্যমের পাশপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মায়ের ভাষায়ও পড়তে পারছে তারা। এদিকে মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ পাওয়ায় শিশুরা জড়তা কাটিয়ে বিদ্যালয়মুখী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে

স্ব-স্ব ভাষায় পড়ানোর জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে শিশুদের পাঠদান হোঁচট খাচ্ছে। জেলার শিক্ষক ও ভাষা গবেষকরা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (পিটিআই) শিক্ষাক্রমে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আগামীতে ভাষা ও বর্ণমালায় অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে শিক্ষকদেরকে দীর্ঘমেয়াদে ভাষাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনেকটা স্বপ্নের মতো করে পাহাড়ি শিশুদের হাতে মাতৃভাষার বই তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি (চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা) এবং সমতলের ২ আদিবাসী (সাদরি ও গারো) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্যে প্রাক-প্রাথমিকের বই রচনা করে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) গেল দুই বছরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির বই ছাপালেও এবার মাতৃভাষায় দ্বিতীয় শ্রেণির বইও ছাপিয়েছে। এর ফলে পাহাড়ের শিশুরা জড়তা কাটিয়ে বিদ্যালয়মুখী হবে বলে আশা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। কিন্তু স্ব স্ব ভাষার পাঠ্যবই হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়ার মতো প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় সরকারের মহতী উদ্যোগটি পুরোদমে কার্যকর করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন ও সনদে মায়ের ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার প্রত্যেকটি নাগরিকের রয়েছে। সেই তাগিদে সরকার প্রথম দফায় ৫টি মাতৃভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং পড়াশোনা শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২য় ও ৩য় পর্যায়ে ম্রো মনিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসিসহ দেশের অপরাপর সকল ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভাষা গবেষকরা নিজেদের ভাষায় অধিকতর প্রশিক্ষণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

ত্রিপুরা ভাষা কমিটির সদস্য মাতৃভাষায় শিক্ষাক্রম চালুর অন্যতম উদ্যোক্তা মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা জানালেন, ৫টি মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় সরকার সাধুবাদ পেতেই পারে। বই ছাপা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে স্কুলেও চলে যাচ্ছে। শিশুরা সেসব বই পড়তেই পারছে না। শিক্ষকরা নিজ নিজ মাতৃভাষায় কীভাবে পড়াবেন, সেটা জানেন না। মাতৃভাষার বর্ণমালার সাথেও শিক্ষকদের পরিচয় না থাকায় শিশুরা মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (ডিপিএড) মাতৃভাষার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা  সময়ের দাবি।’

গবেষক অংসুই মারমা বলেন, ‘এখনই শিক্ষকদের মাতৃভাষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। না হয় সরকারের মহতী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে।’

খাগড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাপ্রিয় ত্রিপুরা ও রঞ্জনমনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধনা চন্দ্র সেন বলেন, ‘প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় মাতৃভাষার বই কার্যকরভাবে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।’

এদিকে গত বছর সময়মতো সব মাতৃভাষার বই স্কুলে বিতরণ করা গেলেও এবার এখনো মারমা ও ত্রিপুরাদের মাতৃভাষার বই খাগড়াছড়ি পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, বইগুলো ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। খুব সহসাই চলে আসবে।

এ প্রসঙ্গে হস্তান্তরিত বিভাগের প্রধান হিসেবে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানিয়েছেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণেই মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভাষাভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গেল দুই বছর ধরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে আরো শতাধিক চাকমা, মারমা ও ককবরক (ত্রিপুরা) শিক্ষককে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা