kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

থাকতেই চান না চিকিৎসক বদলি হন তদবির করে

শ্যামল রুদ্র, রামগড় (খাগড়াছড়ি)   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের তীব্র সংকট চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ (ইউএইচএফপিও) মাত্র তিনজন চিকিৎসক আছেন এখানে। ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

ইউএইচএফপিও ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, চিকিৎসা কর্মকর্তা, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ও গাইনি বিশেষজ্ঞের পদসহ অনেক পদ শূন্য। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক চেয়ে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।

অন্যদিকে, পাহাড়ি এলাকায় এসে চিকিৎসক থাকতে চান না। যাঁরা আসেন তদবির করে অন্যত্র চলে যান। ফলে ২/৩ জন চিকিৎসক দিয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চালাতে হিমশিম অবস্থা।

এদিকে, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে বয়োবৃদ্ধ এক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই রোগীর ছেলে মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘ওই রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত মাকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে একজন চিকিৎসকও পাওয়া যায়নি।’

এ নিয়ে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতালের দুরবস্থার প্রতিকার চান। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আহসান উল্লাহ বলেন, ‘খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে উত্তেজিতদের শান্ত করি। জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাই। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে খোঁজ-খবর নেয়।’

জানতে চাইলে ইউএইচএফপিউ ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সত্যি, চিকিৎসক ওই সময় কিছুটা দেরিতে এসেছেন।’

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে রামগড় সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা গত বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যক্ষ ফারুকুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া এখানে রোগ নিরুপণের ভালো ব্যবস্থা নেই। এই সুযোগে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পোয়াবারো অবস্থা।’

কালাডেবার অধিবাসী নুরুল হুদা বলেন, ‘সেবা পাই না তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই না।’ 

বলিপাড়ার মো. ইউনুছ বলেন, ‘সমপ্রতি হাসপাতালে গিয়ে একজন চিকিৎসকও পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এ বেহাল অবস্থা আগে দেখা যায়নি। এখানকার সরবরাহ করা পানির রং লালচে, অতিরিক্ত আয়রন, মুখে দেওয়া যায় না। একযুগ ধরে এক্সরে যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তারাই রোগীদের এখন ভরসা। এঁরা না থাকলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আরোও বড় ধরনের সমস্যা হত। 

এদিকে ৪৩, বিজিবি ও সিন্দুকছড়ি সেনাজোন রামগড়ের দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন সেনাসদস্যরা।

অপরদিকে রামগড়ের খাগড়াবিল ও পাতাছড়া দুই ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দুটির অবস্থাও করুণ বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য। পাতাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা জানান, চিকিৎসা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে গ্রামাঞ্চলে হাতুড়ে চিকিৎসকেরা অপচিকিৎসা চালিয়ে প্রতারণা করার সুযোগ পাচ্ছে।          

রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘চিকিৎসক ও ওষুধের অভাবে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফিরে যাওয়ার খবর আমার কাছে রয়েছে।’

নজিরটিলার অধিবাসী ব্যবসায়ী মো. রফিক জানান, তাঁর খালা কুসুম (৪০) হাঁপানি রোগী। ভর্তি হয়েও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ছাড়তে হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

ইউএইচএফপিও ডা. জাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসক এসে থাকতে চান না।’

শূন্যপদের বিপরীতে চিকিৎসক চেয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা