kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লেখক-পাঠকের মিলনমেলা

বইমেলায় করপোরেট হাউসগুলোকে যুক্ত করার পরামর্শ কবি শিশির দত্তের

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেখক-পাঠকের মিলনমেলা

চট্টগ্রাম নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে বইমেলায় গতকালও দর্শনার্থীর ঢল নামে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে সম্মিলিত অমর একুশে বইমেলার সপ্তম দিনে শনিবারও দর্শনার্থীর ঢল নামে।

শিশু-কিশোর-নবীন-প্রবীণের পদচারণায় প্রাণের মেলায় পরিণত হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের ১৯ দিনব্যাপী এ বইমেলা। এ যেন লেখক-পাঠকের মহামিলন।

জানতে চাইলে কবি, সাংবাদিক ও নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত বইমেলা সম্পর্কে বলেন, ‘এখন তরুণদের সময়। ওরা কীভাবে মেলা উপভোগ করছে সেটাই মূল কথা। তরুণদের মেলায় যত বেশি সংযুক্ত করা যাবে মেলার আকর্ষণ ততই বাড়বে।’ তিনি আগামীতে বিভিন্ন করপোরেট হাউসকে বইমেলায় যুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বইমেলা মনের খোরাকের পাশাপাশি বাণিজ্যেরও বিষয়।’

কয়েকজন প্রকাশক ও বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুতোষ ভূত-রাক্ষস-দৈত্যের গল্প, ছড়া-কবিতা, বড়দের প্রেমের কবিতা এবং

গল্প-উপন্যাসের বই বিক্রি হচ্ছে বেশি। বিক্রি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্যসহ সব ধরনের বই। তবে কিছু পাঠক শুধু পরিচিত ও জনপ্রিয় লেখকদের বই কিনছেন।

শৈলী প্রকাশনীতে কথা হয়েছে গল্পকার বিচিত্রা সেনের সঙ্গে। এবার মেলায় তাঁর ‘নীল খাম’ নামে একটি গল্পের বই এসেছে। শৈলী প্রকাশ করেছে ছড়াকার উৎপল কান্তি বড়ুয়ার ‘ছড়া সমগ্র’; রাশেদ রউফের ‘শিশু সাহিত্য ও আমাদের দায়বদ্ধতা’। শৈলী প্রকাশন থেকে এই পর্যন্ত ৩১টি বই মেলায় এসেছে। আরো আসার পথে জানালেন শৈলীর কর্মকর্তা আরিফ রায়হান।

জ্যোতির্ময় নন্দীর অনুবাদ সংকলন উর্দুওয়ালি গল্প সংকলন, কবি ওমর কায়সারের নির্বাচিত কবিতা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীণ আখতারের যুদ্ধজীবনসহ এবারের মেলায় চট্টগ্রামের প্রকাশনা সংস্থা খড়িমাটি ৫২টি নতুন বই এনেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কর্মকর্তা ইমরান চৌধুরী।

কবি-সাংবাদিক বিশ্বজিত চৌধুরীর নির্বাচিত গল্প, বাদল সৈয়দের গল্প বই ‘স্বপ্ন ডানা’; রিমঝিম আহমদ এর ‘ময়ূর ফুরে সন্ধ্যা’ ও আসমা বিথীর ‘এসো হে জন্ম ’ নামে বেশ কিছু নতুন বই এসেছে। 

চট্টগ্রামে শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থা বলাকা প্রকাশন বিভিন্নধর্মী মোট ৬৯টি বই প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ও গবেষণাধর্মী ও প্রবন্ধের বই রয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে আছে শামসুল আরেফীনের দুটি বই ‘কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীনতার ঘোষণা’ ও ‘কালুরঘাট প্রতিরোধ যুদ্ধ ও অন্যান্য’। আরো আছে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনের ‘অধিকার-সংগ্রামের বহ্নিশিখা শেখ হাসিনা’।

লেখক-সাংবাদিক শান্তনু চৌধুরীর গ্রন্থ ‘যৌথ জীবনের বিদ্যা’ ও ‘অর্ধেক প্রেমিকা’ পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে কালো (স্টল ৩৩) ও বেহুলা বাংলায় (স্টল ৮০)। গ্রন্থ দুটির বিক্রিও বেশ আশাব্যঞ্জক বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

লিটল ম্যাগাজিন থেকে প্রকাশনা ‘চন্দ্রবিন্দু’ এবারের মেলায় ৫০টি বই প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত হয়েছে সাদিয়া তাজিনের গল্পগ্রন্থ ‘দহন বেলা’। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ঠেলে সাদিয়া নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

সীতাকুণ্ড থেকে মেলায় আসা কর্ণফুলী গ্যাসের অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু জাফর চট্টগ্রামে এমন একটা বইমেলার আয়োজন করায় সিটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘স্টলগুলোকে আরো দৃষ্টিনন্দন করা উচিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা