kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

নোয়াখালীতে ৪০ দিন পর সরকারি নতুন বই পেল একটি মাদরাসা

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারাদেশের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেলেও নোয়াখালীর একটি ইবতেদায়ি মাদরাসার অর্ধশত প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা পায়নি। ৪০ দিন পর গণমাধ্যম ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরকারি নতুন বই সোমবার হাতে পেয়েছে এসব শিক্ষার্থী। দেরিতে হলেও নতুন বই হাতে পেয়ে খুশি তারা। শনিবার ওই মাদরাসার ছাত্রছাত্রীরা মানববন্ধন করলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বই পেল কোমলমতি শিশুরা।

সোমবার দুপুরে নোয়াখালী সদর উপজেলার করমুল্যা বাজারের উত্তর শুল্লকিয়া এলাকায় দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করেন নোয়াখালী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রফিক উল্লাহসহ শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, মাদরাসাটির বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা ৪০ দিন পার হলেও নতুন বই হাতে পায়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নজরে আনলে বই পায় শিক্ষার্থীরা।

তাঁরা আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদর উপজেলা সুপারভাইজার আজিজুল্লার দায়িত্বে অবহেলা ও ষড়যন্ত্রের কারণে বছরের ৪০ দিন পার হলেও প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়নি। তাঁরা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যানে অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন জানান, একটি মাদরাসার প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা বই না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দার্িয়ত্বে অবহেলার কারণে কোনো শিক্ষার্থী বঞ্চিত হতে পারে না। বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

নোয়াখালী ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ওই মাদরাসার কেন্দ্র শিক্ষক ২০১৯ সালে ড্রপ আউট হয়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সে দায়িত্বে অবহেলা করেছে। অভিযুক্ত সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার নজরে আসার পর সোমবার নিজে উপস্থিত থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই বিতরণ করেছি।’

অভিযুক্ত আজিজ উল্লাহ জানান, বিষয়টি তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালককে অবহিত করেছেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় বই বিতরণ বন্ধ রেখেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা